যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গোপনে তুরস্ক ছাড়ার পেছনে ইসরায়েলের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যে বিশ্বাস ছিল না খোদ মার্কিন কর্মকর্তাদের। তারপরও প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি না নিতে উড়োজাহাজ পরিবর্তন করা হয়।
তুরস্কের আঙ্কারায় দুই দিনব্যাপী ন্যাটো সম্মেলন শেষে গত ৮ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা দেন ট্রাম্প। তিনি তুরস্কে গিয়েছিলেন কাতারের উপহার দেওয়া নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজে করে। তবে তুরস্কে অবস্থানকালে তাকে হত্যার চেষ্টা চালানো হতে পারে বলে এক গোপন বার্তা পায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ।
কাতারের দেওয়া উড়োজাহাজটি সম্ভাব্য প্রতিকূল পরিবেশে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কতটা নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হবে, তা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এ কারণে ট্রাম্পকে তার নিয়মিত উড়োজাহাজ এয়ারফোর্স ওয়ানে করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। টেলিভিশন ক্যামেরায় তাকে এয়ারফোর্স ওয়ানে উঠতেও দেখা যায়। কিন্তু সেখান থেকে তিনি গোপনে খাবার সরবরাহকারী ক্যাটারিং ট্রাকে করে নেমে যান। পরে কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে নিয়ে অন্য একটি বিশেষ উড়োজাহাজে (এয়ারফোর্স সি-৩২এ) করে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছান তিনি।
সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) জানিয়েছে, ট্রাম্পের গোপনে উড়োজাহাজ পরিবর্তনের নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নয়, বরং ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের ভূমিকা ছিল। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের মনে এ তথ্যের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ ছিল।
প্রশ্ন উঠেছে, ইসরায়েল কেন যুক্তরাষ্ট্রকে এ তথ্য সরবরাহ করেছিল। সাবেক মার্কিন ন্যাশনাল কাউন্টার-টেররিজম সেন্টারের প্রধান জো কেন্ট বলেন, ‘বিদেশি গোয়েন্দারা কখনো কখনো তাদের নিজেদের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন কিছু তথ্য সরবরাহ করে, যেগুলো নিয়ে সন্দেহের অবকাশ থাকে।’
সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যটি কতটা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, ইসরায়েল হয়তো ভেবেছিল ইরানের হামলার ঝুঁকির কথা জানালে ট্রাম্পের নীতিগত মনোভাব ইসরায়েলের দিকে ঝুঁকে যেতে পারে।
তবে ইসরায়েলের এ কৌশল তাদের জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ড্যানি সিত্রিনোভিচ। ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা কাঠামোয় দীর্ঘদিন কাজ করা ড্যানি বলেন, ‘এমন ঘটনা ভবিষ্যতে ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।’
এমন এক সময় এ বিতর্ক তৈরি হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে গোয়েন্দা সহযোগিতা আরও জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ইন্টেলিজেন্স অথরাইজেশন অ্যাক্ট প্রস্তাব করেছে সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটি, যেখানে ইসরায়েলের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া প্রতিরক্ষা বিলে ২০৩০ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু, সিএনএন