চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি জাহাজ ভাঙা কারখানায় লিক হওয়া বিষাক্ত গ্যাসে আরও পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মারা গেলেন আটজন। ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড নামে ওই কারখানায় আজ শুক্রবার সকালে এই ঘটনা ঘটেছে।
ইয়ার্ডে একটি জাহাজে হাউসকিপিংয়ের কাজ করার সময় গ্যাস লিক হয়েছে বলে জানা যায়। এতে অসুস্থ হয়ে পড়া শ্রমিকদের পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ (চমেক) আশপাশের নানা হাসপাতালে।
ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা আল মামুন প্রথমে ঘটনাস্থলে তিনজনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন। পরে আরও পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি। চমেক হাসপাতালে আনার পর মারা গেছেন তারা। অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১০ থেকে ১৫ জন।
মৃতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন, নাছির, মনছুর, রানা ও খোকন। এর মধ্যে নাছির ও মনছুর সম্পর্কে ভাই।
ঘটনার খবর পেয়ে চমেক হাসপাতালে এসেছেন ভাটিয়ারী এলাকার মো. মহিউদ্দিন। বোনজামাই মনছুরের খোঁজে এসে পান তার মৃতদেহ। তিনিই জানান, মনছুরের ছোট ভাই নাছিরও গ্যাসের বিষক্রিয়ায় মারা গেছেন।
‘সকাল ৭ টায় দুই ভাই ঘর থেকে বের হয়ে কাজে যায়। ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে দুর্ঘটনার খবর আসে। ততক্ষণে সব শেষ। আমার বোনের দুই মেয়ে। এখম তারা কীভাবে চলবে জানি না’- বলছিলেন মনছুর।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মাহবুবুল হাসান বলেছেন, ‘আমরা ১০ জন শ্রমিক অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়েছি। তাদের মধ্যে কয়েকজন মারা গেছে শুনেছি।’
ঘটনাস্থলে এখন উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে স্থানীয় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।
সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডগুলোতে পরিত্যক্ত জাহাজ ভেঙে-কেটে মূলত রড তৈরির লোহা সংগ্রহ করা হয়। সেখানে কাজটি অনিরাপদ পরিবেশে করা হয় বলে অভিযোগ বহুদিনের।
বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডগুলোতে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় অন্তত তিন শ্রমিক নিহত এবং ৩৮ জন আহত হন।