Image description

২০২৬ বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার অন্যতম সেরা পারফরমার গুস্তাভো পুয়ের্তা জানিয়েছেন, শৈশবে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনা প্রায় শেষ করে দিচ্ছিল তার ফুটবল ক্যারিয়ার। মাত্র ১০ বছর বয়সে পথচারী অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। সেই গুলি চার বছর ধরে তার পায়ের ভেতরেই আটকে ছিল।

উন ব্রেক অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ২৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার ঘটনাটির বিস্তারিত জানিয়েছেন, ‘বাবার জন্য কিছু টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলাম। কয়েকজন একজনকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করছিল। আমি সাইকেলে যাচ্ছিলাম, তখনই গুলিবিদ্ধ হই। সঙ্গে সঙ্গে সাইকেল ফেলে ঘাসের ওপর শুয়ে পড়ি। কয়েক সেকেন্ড পর দেখি আমার শর্টসে বড় একটি ছিদ্র হয়ে গেছে।‘

তিনি জানিয়েছেন, তীব্র যন্ত্রণায় অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর তার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল তিনি আবার ফুটবল খেলতে পারবেন কি না, ‘তখন আমার বয়স মাত্র ১০ বছর। গুলিটি পা ভেদ করেনি ভেতরেই আটকে ছিল। মনে হচ্ছিল ভেতর থেকে মাংস পুড়িয়ে দিচ্ছে। ব্যথায় আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। হাসপাতালে পৌঁছে প্রথমেই জানতে চেয়েছিলাম আমি আবার ফুটবল খেলতে পারব কি না। সেটাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।’

গুলিটি মহাধমনীর (অর্টা) খুব কাছাকাছি থাকায় চিকিৎসকেরা শুরুতে অস্ত্রোপচার করে তা বের করার ঝুঁকি নেননি। ২০১৫ সালে একবার অস্ত্রোপচারের চেষ্টা করা হলেও অতিরিক্ত ঝুঁকির কারণে সেটি মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ২০১৮ সালে সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গুলিটি বের করা সম্ভব হয়।

পুয়ের্তা সেসময়ের কঠিন পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন, ‘ঈশ্বরের কৃপায় গুলিটি আগে মাটিতে, তারপর আমার সাইকেলে লেগেছিল। না হলে আরও বেশি শক্তিতে আঘাত করে আমার উরুর হাড় ভেঙে যেতে পারত। তখন গল্পটা অন্যরকম হতো। ২০১৮ সাল পর্যন্ত গুলিটি আমার শরীরেই ছিল। এভাবে খেলা চালিয়ে যাওয়া খুব কঠিন ছিল। ঠান্ডা আবহাওয়া বা পূর্ণিমার রাতে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করতাম।‘