যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে সদ্য শেষ হওয়া ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১১৩টি ভুল তথ্য ছড়ানোর কথা জানিয়েছে তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার।
প্রতিষ্ঠানটির গত ২৭ জুলাই প্রকাশিত বিশ্লেষণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য ছড়িয়েছে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে। দলটি নিয়ে শনাক্ত ৫২টি ভুল তথ্যের ৬৫ শতাংশ ছিল দলটির জন্য নেতিবাচক।
বিশ্বকাপজয়ী স্পেনকে নিয়ে পাওয়া ২০টি ভুল তথ্যের ৮০ শতাংশ ছিল দলটির পক্ষে। এ ছাড়া ব্রাজিলকে নিয়ে ১৬টি, মিসরকে নিয়ে ১৪টি এবং পর্তুগালকে নিয়ে ৭টি ভুল তথ্য প্রচারিত হয়েছে।
খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন লিওনেল মেসি। তাকে নিয়ে ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে ২২টি। এর ৬৪ শতাংশই ছিল মেসির বিপক্ষে। স্পেনের লামিন ইয়ামালকে নিয়ে ছড়ানো ১১টি ভুল তথ্যের ৮২ শতাংশ ছিল ইতিবাচক। এ ছাড়া নেইমার জুনিয়রকে ঘিরে ৮টি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে ৬টি এবং এরলিং হলান্ডকে নিয়ে ৩টি ভুল তথ্য পাওয়া গেছে।
ম্যাচভিত্তিক বিশ্লেষণে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য ছড়িয়েছে আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল ঘিরে। ম্যাচটি কেন্দ্র করে ২২টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার। মিসর-আর্জেন্টিনার শেষ ষোলোর ম্যাচ ঘিরে ২০টি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে। স্পেন-পর্তুগাল ও ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচকে ঘিরে তিনটি করে ভুল তথ্য পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিশ্বকাপের ভুল তথ্য তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার ছিল চোখে পড়ার মতো। এআই দিয়ে তৈরি ৩৩টি ভুয়া ছবি ও ভিডিও শনাক্ত করা হয়েছে। পুরোনো ছবি ও ভিডিওকে সাম্প্রতিক ঘটনার দৃশ্য হিসেবে চালানোর ঘটনা ছিল ১৭টি। বাংলাদেশের গণমাধ্যমের নামে ৭টি ভুয়া ফটোকার্ড এবং ৭টি সার্কাজমভিত্তিক বিভ্রান্তিকর কনটেন্টও ছড়িয়েছে।
গুজব শুধু দল বা খেলোয়াড়কে ঘিরে সীমাবদ্ধ ছিল না। বিশ্বকাপ চলাকালে ৩৩ ব্যক্তির নামে মোট ৩৮টি ভুয়া মন্তব্য প্রচার করা হয়। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের ৬ জন এবং বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ১৩ খেলোয়াড় রয়েছেন। খেলোয়াড়দের মধ্যে লামিন ইয়ামালের নামে সর্বাধিক ৪টি ভুয়া মন্তব্য ছড়িয়েছে। এ ছাড়া মেসি ও জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের নামে দুটি করে ভুয়া মন্তব্য পাওয়া গেছে।
দেশের গণমাধ্যমও ভুল তথ্য ছড়িয়েছে। রিউমর স্ক্যানারের হিসাবে, বিশ্বকাপ সংশ্লিষ্ট ২২টি ঘটনায় বাংলাদেশের ৭৮টি গণমাধ্যম মোট ১৪৩টি ভুল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে মাছরাঙা টিভি ৬টি এবং কালবেলা ৫টি ভুল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ইত্তেফাক, সময়ের আলো, বাংলানিউজ২৪, ক্রিকফ্রেঞ্জি ও দ্য নিউজ ৪টি করে ভুল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।