Image description

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের সম্পদের খোঁজে আবারো মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নারায়ণগঞ্জের জলসিঁড়ির ডুপ্লেক্স বাড়ির পর এবার রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসে থাকা তার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে মালামালের তালিকা (ইনভেন্টরি) তৈরির কাজ করেছে সংস্থাটি। গতকাল সকাল থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশে ফ্ল্যাটে থাকা প্রতিটি কক্ষের মালামাল যাচাই করে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ফ্ল্যাটে থাকা মূল্যবান আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, শোপিস ও বিভিন্ন ব্যবহার্য মালামাল ইনভেন্টরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে বিকাল পর্যন্ত দুদক আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো জব্দ তালিকা বা উদ্ধার হওয়া মালামালের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করেনি।

দুদকের উপ-পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, মিরপুর ডিওএইচএসের রোড-৩১, প্লট নম্বর-৫৪১, ফ্ল্যাট নম্বর এল-৩-এ অবস্থিত বাসায় দুদক সম্পদের তালিকা করতে এ কার্যক্রম চালিয়েছে। চলমান ইনভেন্টরি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাসায় থাকা বিভিন্ন সামগ্রী ও নথিপত্রের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মাসে জিয়াউল আহসানের সম্পদে দুদকের এটি দ্বিতীয় বড় অভিযান।

দুদক সূত্র বলছে, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের মামলার তদন্তে আদালতের নির্দেশে ক্রোক করা সম্পদের প্রকৃত অবস্থা নিরূপণ এবং সংরক্ষণের স্বার্থেই এই ইনভেন্টরি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তালিকা প্রস্তুত হলে সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রম সহজ হবে।

এর আগে চলতি বছরের ২৭শে জানুয়ারি আদালত জিয়াউল আহসান ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে ক্রোক করা সম্পত্তিগুলোর তত্ত্বাবধানের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও গণপূর্ত বিভাগকে রিসিভার (তত্ত্বাবধায়ক) হিসেবে নিয়োগ দেন। এরও আগে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জিয়াউল আহসানের প্রায় ১৮ কোটি টাকার জমি, বাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্রোক এবং তার নামে থাকা ৯টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৩শে জানুয়ারি জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। তিনি সর্বশেষ ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। একই বছরের ১৫ই আগস্ট রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।