Image description

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনীতির মাঠ। দলীয় প্রতীকবিহীন এ নির্বাচনে একক প্রার্থী নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ বিএনপির। দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, দলীয় প্রতীক না থাকায় একক প্রার্থী নির্ধারণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তবে সম্ভাব্য বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানামুখী কৌশল নেওয়া শুরু করেছে দলটি। অন্যদিকে সংসদে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বেশ কিছু দল অনেক আসনে একক প্রার্থী ঘোষণা করে নির্বাচনি মাঠ চষে বেড়াচ্ছে।

আগস্টে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবরের মধ্যেই প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণ শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন উপযোগী দেশের ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা, ৩৩০টি পৌরসভা এবং ১৩টি সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদের হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহের কাজ ইতোমধ্যে শেষ করেছে ইসি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, বড় দলে যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা বেশি থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে চূড়ান্ত মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, দলের প্রতি ত্যাগ, অবদান এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর চেয়ে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কমিশন তাদের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে যথাসময়ে তফসিল ঘোষণা করবে। তবে একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে যে যার অবস্থান থেকে নির্বাচনি প্রস্তুতি নেবে- এটাই স্বাভাবিক।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় শুভেচ্ছা-সংবলতি পোস্টার-ফেস্টুন সাঁটিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা ও বিভিন্ন ইস্যুতে সোচ্চার ভূমিকা রাখছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সমর্থন পেতে অনেকেই জোর তদবির-লবিং শুরু করেছেন। দলীয় সূত্র জানায়, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে এখন থেকেই সব রকম প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি। এই নির্বাচনের সুযোগে সারা দেশে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করতে চায় দলটি। সম্প্রতি বিএনপির তিন সহযোগী সংগঠন- যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় এবং জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার নেতাদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে তারেক রহমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করার স্পষ্ট বার্তা দেন। বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করার জন্য নেতাদের কঠোর নির্দেশ দেন। তিনি জানান, প্রাক-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এলাকায় জনপ্রিয়তা, সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্যতা এবং বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা- এ তিনটি মানদণ্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে চূড়ান্তভাবে প্রার্থীদের ভোটারদের আস্থা অর্জন করেই জয়ী হতে হবে।

জানা গেছে, সম্ভাব্য বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিরুৎসাহিত করতে বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদকদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করবেন এবং দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলার আহ্বান জানাবেন।

তবে বিএনপি-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এমন কঠোর নির্দেশনা ও আহ্বান জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা কতটুকু একমত হতে পারবেন, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কারণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারম্যানের কঠোর বার্তা সত্ত্বেও ১৯০ জন বিদ্রোহী প্রার্থী দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং পরবর্তীতে বহিষ্কৃত হন। ফলে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনেও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে কি না, তা নিয়ে দলের নীতিনির্ধারকদের নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।