বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না জামায়াতে ইসলামীর। কয়েকজন সংসদ সদস্য ও নেতাকর্মীদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে সমালোচনার মুখে পড়েছে সংসদে বিরোধীদের আসনে বসা দলটি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ও সংসদ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করে জামায়াত। কিন্তু নৈতিক স্খলনের অভিযোগে দলের একজন এমপি বহিষ্কার, অনুদান বণ্টনে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ, সংসদে ভুল তথ্য প্রদান এবং সরকারি সুবিধা বিতরণে অনিয়মের মতো ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্র বলছে, দল অন্যায়, অনিয়ম বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেয় না। কোনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়, যা জনগণ ইতিবাচকভাবেই দেখছে। এতে ইমেজের ওপর প্রভাব পড়বে না।
সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে। এক নারীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে দলীয় তদন্তে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে জানিয়ে জামায়াত তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। এই সংসদ সদস্যের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশন ও জাতীয় সংসদের স্পিকারকে চিঠি দেয় দলটি।
এর আগে নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর বিরুদ্ধে সংসদ সদস্যদের ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকায় তার মেয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ ওঠে। একইসঙ্গে তালিকায় তার নিজ ইউনিয়ন ও শ্বশুরবাড়ি এলাকার মানুষের আধিক্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সমালোচনার মুখে তিনি দাবি করেন, তালিকা প্রস্তুতের দায়িত্বে ছিলেন তার ব্যক্তিগত সচিব।
জাতীয় সংসদেও বিতর্কের জন্ম দেন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম। বাজেট অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে তিনি জীবিত বাবাকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হিসেবে উল্লেখ করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে তিনি ভুল স্বীকার করেন এবং সংসদের কার্যবিবরণী সংশোধনের জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন জানান।
এ ছাড়া ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে সরকারি বরাদ্দের একটি বাইসাইকেল অন্যের নামে বরাদ্দ দেখিয়ে উপজেলা জামায়াতের আমীর ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম নিজের নাতনিকে উপহার দিয়েছেনÑ এমন অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সমালোচনার মুখে পড়ে সাইকেলটি ফেরত দিয়ে প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গত মঙ্গলবার যশোর-৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাড়িতে হামলা ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় কয়েকশ’ নারী-পুরুষ। স্থানীয়রা জানায়, শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় এমপি গোলাম রসুলের বাড়ি সংলগ্ন আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ ও মসজিদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে গত সোমবার সকালে এমপি’র মেয়ে মেডিকেল শিক্ষার্থী মেহজাবিন অনন্যা মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থী আয়ান এবং রেক্সোনা নামে এক নারীকে মারধর করেন। জামায়াতে ইসলামীর মিডিয়া উইং থেকে দাবি করা হয়েছেÑ এমপি’র মেয়ে সিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত। অন্যদিকে, এমপি গোলাম রসুলের বাসায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলটি জানায়, বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মদতে পরিকল্পিতভাবে একদল সন্ত্রাসী এ হামলা চালিয়েছে।
এসব বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ মানবজমিনকে বলেন, আমরা আমাদের অবস্থানে অটল আছি। অনেকেই দলের ইমেজের কথা বলেন। সাংবাদিকরাও প্রায়ই জানতে চান, এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে কিনা। কিন্তু দলের ইমেজের ব্যাপারে আমরা সচেতন বলেই গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারার আওতায় ব্যবস্থা নিয়েছি। এসব বিষয়ে কোনো আপস নেই বলেও জানান তিনি।