Image description

ছাত্রের কাছে হেরে গেলে নাকি শিক্ষকের কষ্ট হয় না। উল্টো গর্বে বুক ফুলে ওঠে। কিন্তু সেটা যদি হয় বিশ্বকাপের ফাইনাল, তখন কি কেউ হারতে চাইবেন? ঠিক এমনই এক পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ও আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। মায়ামির ফাইনালের আগে ‘ছাত্র’ স্কালোনি বলছেন, ‘শিক্ষক’ ফুয়েন্তেকে হারানোর লক্ষ্যেই মাঠে নামবে তার দল।

৯ বছর আগের কথা। স্কালোনি তখন হোর্হে সাম্পাওলির কোচিং স্টাফের অংশ। উয়েফা প্রো লিগের লাইসেন্স পাওয়ার কোর্সে ফুয়েন্তে ছিলেন স্কালোনির শিক্ষক। ফুয়েন্তে শেখাতেন কৌশল ও খেলার ধরন।

ফুয়েন্তের কাছে শেখা সেই কৌশল স্কালোনির কোচিং ক্যারিয়ারে এনেছে আমূল পরিবর্তন। আর্জেন্টিনাকে ৩৬ বছর পর জিতিয়েছেন বিশ্বকাপ। আছে টানা দুই কোপা আমেরিকা শিরোপাও।

টানা দ্বিতীয়বার আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছেন স্কালোনি। মায়ামির সেই মঞ্চে প্রতিপক্ষের ডাগআউটে থাকবেন সেই ফুয়েন্তে। শিক্ষককে ‘সম্মান’ দেখালেও ফাইনালে তাকেই হারাতে চান স্কালোনি, ‘রবিবার আমরা তাদের হারানোর চেষ্টা করব। তবে স্পেন ও তাদের কোচের প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ সম্মান রয়েছে। তারা কেমন খেলে তার জন্য নয়, বরং তাদের যা অর্জন আছে সেটার জন্যও। ফাইনালে একটা দুর্দান্ত ম্যাচ হতে যাচ্ছে। আমি আশা করি স্প্যানিশরা খুশি হবে যে আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠেছে। কারণ মেসি সেই দেশকে অনেক বেশি আনন্দ দিয়েছে।‘

ফুয়েন্তের সঙ্গে তার সম্পর্কটা কত ভালো, সেটা আবারও জানালেন স্কালোনি, ‘কোচিং কোর্সে আমার শিক্ষক হওয়ার পাশাপাশি, তার সাথে আমার একটি দারুণ সম্পর্ক ছিল। তার সহজ ও অমায়িক আচরণ আমার খুব ভালো লাগত।‘

কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের পর ফুয়েন্তের সঙ্গে কথাও হয়েছিল স্কালোনির, ‘কাতারে শিরোপা জেতার পর আমরা কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলেছিলাম। এটা তারও কাজে লেগেছে। আমি অহংকার করে এই কথা বলছি না। ইতিবাচক অর্থেই বলছি। তিনি ওই কথাগুলো স্পেন জাতীয় দলে দারুণভাবে বাস্তবায়ন করেছেন।‘

ফাইনালে ওঠার পর ফুয়েন্তেও ছাত্রের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন, ‘স্কালোনি খুব পরিশ্রমী একজন ছাত্র ছিল। তার অনেক বেশি জানার আগ্রহ ছিল। তার মধ্যে এমন একটা ব্যাপার ছিল যে, সে নিশ্চিতভাবেই আরও বড় হতে চায়। তার শিক্ষক হতে পারাটা একটি সম্মানের বিষয়।‘

ফাইনালে শেষ পর্যন্ত জয় পাবে কে? শিক্ষক কি তার জাদুবলে ছাত্রকে মাত দেবেন? নাকি তারই শেখানো কৌশলের কাছে ধরাশায়ী হবে?