বয়স শুধু একটি সংখ্যা- এ কথাটির জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। ২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে আসা ৪০ বছর বয়সী এই গোলকিপার এখন নতুন ক্লাবের খোঁজে। তবে আগ্রহী ক্লাবগুলোর উদ্দেশে তিনি পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন- তাকে যেন শুধুই প্রচারণার মুখ নয়, একজন ফুটবলার হিসেবেই মূল্যায়ন করা হয়।
সিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভোজিনিহা বলেন, ‘আমি এমন একটি ক্লাব খুঁজছি, যারা আমাকে আমার ফুটবল সামর্থ্যের জন্য দলে নিতে চাইবে, শুধু মার্কেটিংয়ের জন্য নয়।’
বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্সের পর কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষককে দলে ভেড়াতে আগ্রহ দেখিয়েছে চিলির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব কোলো-কোলো। ইতোমধ্যেই ক্লাবটি তাকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবও দিয়েছে।
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ভোজিনিহা বলেন, ‘৪০ বছর বয়সেও আমি একই আবেগ অনুভব করছি। অন্তত আরও এক বা দুই বছর খেলতে চাই। অবশ্যই সবকিছু নির্ভর করবে আমার শরীর কিভাবে সাড়া দেয় তার ওপর। ভবিষ্যতে কী হবে, কেউ জানে না। তবে আমি খেলতে চাই।’
বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের হয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে তার নাম জড়িয়েছিল লিওনেল মেসির ইন্টার মিয়ামির সঙ্গেও। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামার পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাবটিতে তার সম্ভাব্য যোগদানের গুঞ্জন ছড়ায়। তবে এখন পর্যন্ত সেই আলোচনা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবে রূপ নেয়নি।
বর্তমানে ভোজিনহা ফ্রি এজেন্ট। পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব জিডি শাভেসের সঙ্গে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।
সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে নিজের সংগ্রামের গল্পও তুলে ধরেন অভিজ্ঞ এই গোলকিপার। ‘ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল পেশাদার ফুটবলার হওয়ার। কিন্তু আমাদের দেশে খেলাধুলায় পেশাদার হওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত। একজন কেপ ভার্দিয়ানের জন্য প্রথম লড়াইটাই শুরু হয় ভিসা পাওয়া নিয়ে। এরপর আসে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে প্রমাণ করার লড়াই। শুধু ফুটবল নয়, প্রায় সব ক্ষেত্রেই আমাদের একই সংগ্রামের মুখোমুখি হতে হয়।’
বিশ্বকাপে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে যে ভোজিনহা এখনও সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সামর্থ্য রাখেন, তা তিনি প্রমাণ করেছেন। এখন দেখার বিষয়, অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষককে ফুটবল দক্ষতার জন্য কোন ক্লাব নতুন ঠিকানা হিসেবে বেছে নেয়।