একের পর এক ফুটবলারের ভিসা বাতিল বা না দেওয়ার ঘটনা ঘটছে বিশ্বকাপে। যুক্তরাষ্ট্র ইরান ফুটবল দলকে ভিসা দিতে গিয়ে নানা জটিলতা তৈরি করেছিল। এক ম্যাচ খেলার পর এক ফুটবলারের ভিসার মেয়াদ শেষ হযে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। আরেক আয়োজক দেশ কানাডা একদিন আগে ভিসার আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল ঘানার ফুটবলার থমাস পার্টের।
এবার কানাডা কর্তৃক ভিসা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আইভরি কোস্টের এক ফুটবলারকে। যার ফলে জার্মানির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড, ২৩ বছর বয়সী এলিয়ে ওয়াহিকে পাচ্ছে না আইভরি কোস্ট।
ফরাসী ক্লাব নিসের এই ফরোয়ার্ডকে ঘিরে বিশ্বকাপের আগেই তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। ফ্রান্সের লিগ ওয়ানে স্পট-ফিক্সিংয়ের অভিযোগে গত মাসে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে তদন্ত চলমান থাকলেও এখনো তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।
ওয়াহির বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত মে মাসে নিসের হয়ে মেটজের বিপক্ষে ম্যাচে ইচ্ছাকৃতভাবে হলুদ কার্ড পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। এ ধরনের ঘটনাকে ‘স্পট-ফিক্সিং’ বলা হয়- যেখানে পুরো ম্যাচের ফল নয়, বরং নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা (যেমন কার্ড, কর্নার বা অন্য কোনো সিদ্ধান্ত) প্রভাবিত করে বাজির বাজারে লাভ করার চেষ্টা করা হয়।
মার্শেইয়ের পাবলিক প্রসিকিউটর অফিস জানিয়েছে, ফ্রান্সের লিগ ওয়ানে খেলা ২৩ বছর বয়সী এক ফুটবলারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। যদিও বিবৃতিতে খেলোয়াড়ের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে তদন্তের সঙ্গে ওয়াহির নাম জড়িয়েছে।
ফ্রান্সের পেশাদার ফুটবল লিগ (এলএফপি) বুধবার জানিয়েছে, ওয়াহিকে ঘিরে অস্বাভাবিক পরিমাণ বাজি ধরা হয়েছিল বলে তারা সতর্ক হয়েছে।
এলএফপি এক বিবৃতিতে বলেছে, ওয়াহির হলুদ কার্ড পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্বাভাবিক বেশি বাজি লক্ষ্য করা গেছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এবং বিষয়টি গোপনীয় হওয়ায় তারা এখনই বিস্তারিত মন্তব্য করবে না। তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
তবে আইভরি কোস্ট ফুটবল ফেডারেশন (এফআইএফ) জানিয়েছে, ওয়াহির বিরুদ্ধে কোনো বিচারিক বা প্রশাসনিক কার্যক্রমের বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পায়নি। ফেডারেশন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এখনও পর্যন্ত ওয়াহির বিরুদ্ধে কোনো বিচারিক বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে এফআইএফকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। এই কঠিন সময়ে আমরা খেলোয়াড়ের পাশে আছি এবং তার ওপর আমাদের আস্থা রয়েছে। ওয়াহি জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।’
তবে কানাডায় প্রবেশের প্রয়োজনীয় অনুমতি না পাওয়ায় দলের সঙ্গে যাত্রা করতে পারছেন না ওয়াহি। আপাতত তিনি যুক্তরাষ্ট্রেই থাকবেন এবং তার দল ফেরার আগ পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করবেন।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে অবশ্য মাঠে নেমেছিলেন ওয়াহি। ইকুয়েডরের বিপক্ষে আইভরি কোস্টের জয়ী ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন তিনি; কিন্তু জার্মানির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার অনুপস্থিতি দলের জন্য বড় ক্ষতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বিশ্বকাপে কানাডায় প্রবেশে বাধা পাওয়া ওয়াহি দ্বিতীয় খেলোয়াড়। এর আগে ঘানার মিডফিল্ডার থমাস পার্টেকেও কানাডায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
পার্টে যুক্তরাজ্যে চলমান একটি ফৌজদারি মামলার কারণে ভিসা সমস্যায় পড়েন। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে, যদিও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। এ কারণে ঘানার বিশ্বকাপ ম্যাচে তিনি অংশ নিতে পারেননি।
এদিকে ওয়াহিকে ঘিরে তদন্ত এখনো চলছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হলেও বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন পরিস্থিতি আইভরি কোস্ট শিবিরে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচের পর আইভরি কোস্টের পরবর্তী ম্যাচ কুরাসাওয়ের বিপক্ষে। তার আগে ওয়াহি কবে দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।