Image description

বিশ্বকাপের মঞ্চে মরক্কো মানেই নতুন কোনো রূপকথা আর চমকের অপেক্ষা। গত কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে বিশ্বকে চমকে দেওয়া ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’রা এবার ২০২৬ আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের। মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে সেলেসাওদের প্রতি সমীহ রেখেই হুঙ্কার দিলেন মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমি। প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) এই তারকা রাইট-ব্যাক স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বিশ্বমঞ্চে আবারও বড় কিছু করে দেখানোর জন্য তার দল সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে রবিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় গ্রুপ ‘সি’-এর এই বিগ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের প্রশংসা করলেও নিজেদের শক্তির ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন ২৭ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার।

ব্রাজিল দলে নেইমার না থাকলেও রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র যে মরক্কো রক্ষণভাগের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি, তা ভালো করেই জানেন হাকিমি। রিয়ালের সাবেক এই খেলোয়াড় বলেন, 'ব্রাজিল দল সম্পর্কে সবাই জানে। ভিনির (ভিনিসিয়ুস) মান কেমন, তা আমাদের চেনা। অতীতেও আমি তাঁর বিপক্ষে খেলেছি, ও অসাধারণ একজন ফুটবলার। তবে ভিনি কিংবা ব্রাজিলের এই বিশ্বমানের আক্রমণভাগকে শুধু একজন খেলোয়াড় দিয়ে আটকানো যাবে না, এর জন্য প্রয়োজন দলগত ডিফেন্স। আমরা কৌশলী অনুশীলন করেছি এবং প্রথম ম্যাচে দারুণ পারফর্ম করতে আমি নিজে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী।'

নিজেদের খেলার শৈল্পিক ধরনের কারণে মরক্কোকে ফুটবল বিশ্বে অনেকেই ‘আফ্রিকান ব্রাজিল’ বলে ডেকে থাকেন। সেই বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে হাকিমি বলেন, 'আমরা জানি কাল কাদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। তাদের যেমন বিশ্বমানের খেলোয়াড় আছে, আমাদের দলেও সামর্থ্যের কোনো কমতি নেই। মানুষ এমনি এমনি আমাদের "আফ্রিকান ব্রাজিল" বলে না। আমাদের দলেও দুর্দান্ত কিছু প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছে।'

বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে চোটের কারণে স্কোয়াড থেকে ছিটকে গেছেন মরক্কোর অন্যতম প্রধান দুই তারকা নায়েফ আগের্দ এবং আবদে ইজ্জালজুলি। সতীর্থদের এই অনুপস্থিতি নিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে হাকিমি বলেন, 'ইজ্জালজুলি এবং আগের্দের জন্য আমাদের ভীষণ খারাপ লাগছে। দুর্ভাগ্যবশত ওরা বিশ্বকাপে আমাদের সাথে থাকতে পারছে না। তবে মাঠে আমরা এই দুজনের জন্য আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করব।'

নিজেদের দেশের ফুটবলপ্রেমীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মরক্কো অধিনায়ক বলেন, 'মরক্কোর সমর্থকদের নিয়ে আমার মনে কোনো সন্দেহ নেই। জাতীয় দলকে সমর্থন দিতে তারা অনেক ত্যাগ স্বীকার করে দূর প্রবাসে (যুক্তরাষ্ট্র) ছুটে এসেছেন। স্টেডিয়ামে তাদের উপস্থিতি আমাদের গায়ের জোর আরও বাড়িয়ে দেয়। মাঠে নিজেদের উজার করে দেওয়ার এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। তারা যেমন আমাদের নিয়ে গর্ব করেন, আমরাও তাদের নিয়ে গর্বিত।'

ফিফা র‌্যাংকিংয়ের ষষ্ঠ স্থানে থাকা ব্রাজিল বনাম অষ্টম স্থানে থাকা মরক্কোর এই লড়াইকে চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচ হিসেবে ধরা হচ্ছে। কাতার বিশ্বকাপের সেই অপ্রতিরোধ্য ছন্দ ধরে রেখে হাকিমিরা আমেরিকার মাটিতে সাম্বা বয়দের স্তব্ধ করতে পারেন কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়