Image description

দিনের শেষ বলটা বাংলাদেশকে হয়তো কিছুটা আক্ষেপে ফেলেছে। খুররম শাহজাদের বলে ব্যাট ছুঁইয়ে উইকেটকিপার মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দেন মুমিনুল হক। ৬০ বলে ৩ চারে ৩০ রান করে মুমিনুলের ফেরা বাদে পুরো দিনটি ছিল বাংলাদেশের। সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে বেশ শক্ত অবস্থানে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ১১০ রান, সব মিলিয়ে এগিয়ে ১৫৬ রানে।

 

প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানকে ২৩২ রানে অলআউট করে ৪৬ রানের লিড নিয়েছিল বাংলাদেশ। দিনের শুরুতে মেঘলা আবহাওয়া ও পিচের সহায়তা কাজে লাগিয়ে তাসকিন আহমেদ শুরুতেই দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ, নাহিদ রানা ও তাইজুল ইসলাম নিয়মিত বিরতিতে উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে বড় স্কোর গড়তে দেননি।

পাকিস্তানের ইনিংসে একমাত্র বড় প্রতিরোধ আসে বাবর আজমের ব্যাট থেকে। চোট কাটিয়ে ফেরা বাবর ৬৮ রান করেন। তাকে ফেরান নাহিদ রানা। বাবরের পর সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের মিডল অর্ডারে চাপ বাড়ান তাইজুল। শেষ দিকে সাজিদ খান ২৮ বলে ৩৮ রান করে বাংলাদেশের সম্ভাব্য বড় লিড কিছুটা কমিয়ে দেন।

 

বাংলাদেশের হয়ে প্রথম ইনিংসে নাহিদ রানা ৩ উইকেট নেন। তাইজুল ইসলামও নেন ৩ উইকেট। তাসকিন ও মিরাজের শিকার ২টি করে। পাকিস্তান একসময় ১৭৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়েছিল, তবে সাজিদের পাল্টা আক্রমণে শেষ পর্যন্ত ২৩২ পর্যন্ত যায় সফরকারীরা। তবু ৪৬ রানের লিড বাংলাদেশকে দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো ভিত্তি দেয়।

 

দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুটা আক্রমণাত্মক করেন মাহমুদুল হাসান জয়। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে ফেরা এই ওপেনার এবার শুরু থেকেই ইতিবাচক ছিলেন। তানজিদ হাসান ৪ রানে দ্রুত ফেরার পর মুমিনুলকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন জয়। সাজিদ খানকে পরপর দুই চার মেরে দলীয় ৫০ পার করান তিনি।

 

জয়ের ব্যাটে আসে দ্রুত ফিফটি। মোহাম্মদ আব্বাসের বল প্যাডে পেয়ে অন সাইডে চার মেরে ৬১ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। তবে ফিফটির পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। আব্বাসের লেংথ বল ক্রস ব্যাটে মারতে গিয়ে ডিপে ক্যাচ দেন জয়। ৬৪ বলে ১০ চারে ৫২ রান করে ফেরেন তিনি।

 

জয় ফেরার পর মুমিনুল ও নাজমুল হোসেন শান্ত সতর্কভাবে এগোচ্ছিলেন। শান্ত ১৩ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। কিন্তু দিনের শেষ মুহূর্তে মুমিনুলের উইকেট পাকিস্তানকে সামান্য স্বস্তি দেয়। খুররমের পরিশ্রমী স্পেলে দিনের শেষ বলেই ক্যাচ দেন মুমিনুল।

দুই দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে।