Image description
 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের হয়ে অংশ নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত এ রাজনৈতিক দলের ৬ জন সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনের পরেও ১১ দলীয় ঐক্য বহাল থাকছে, দলগুলোর কার্যক্রমে এমনটিই মনে হচ্ছে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে বিরোধী দলের চিফ হুইপের পদে বসানোর কথা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। গতকাল মঙ্গলবার একসঙ্গে কর্মসূচিও করেছে ১১ দল।

এ বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ফেলো মোবাশ্বার হাসানের সঙ্গে কথা বলেছে স্ট্রিম। মোবাশ্বার হাসান বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের পরেও আপাতত এনসিপি ও জামায়াতের জোটবদ্ধতা বহাল থাকবে। কারণ, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে জামায়াতের মাধ্যমে এনসিপি চেষ্টা করবে দেশব্যাপী দলকে শক্তিশালী করার।

ড. মোবাশ্বার হাসানে বলেন, জামায়াতের সঙ্গে গিয়ে এনসিপি বেনিফিটেড হচ্ছে। তারা নতুন এই দলটিকে গঠন করার চেষ্টা করছে। আবার জামায়াতও বেনিফিটেড হচ্ছে। তারা ভালোভাবে নিজেদের জুলাইয়ের অংশীদার দাবি করছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তো জামায়াতের অংশগ্রহণ ছিলই, অন্য দলগুলোরও ছিল। এনসিপির ফেসগুলো ছিল সম্মুখসারিতে।

তবে অদূর ভবিষ্যতে এই জোট নাও থাকতে পারে বলে মনে করেন মোবাশ্বার হাসান। তিনি বলেন, 'অবাক হবো না পাঁচ বছর পর যদি এনসিপির আর জামায়াতের সঙ্গে জোটে না থাকে। তারা আপাতত একসঙ্গে থাকবে। তবে পরবর্তীতে না থাকাটাও অস্বাভাবিক হবে না।'

মোবাশ্বার হাসান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রায় সব দলের অংশগ্রহণ ছিল। সব দলেই তরুণরা যুক্ত আছে। ফলে সব দলের তরুণরাই অভ্যুত্থানে ছিল। কিন্তু একাত্তরকে যেমন আওয়ামী লীগ নিজেদের করে নিতে চেয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পরেও এমন একটি প্রবণতা দেখা গেছে। কারণ বিএনপি, জামায়াতসহ অন্য দলের তরুণরাও জুলাইয়ে রাজপথে ছিল। কিন্তু এনসিপি এক্ষেত্রে ফ্যাসিলিটেটেড ছিল। অনেকে বলার চেষ্টা করেছেন অভ্যুত্থানের তরুণরাই এনসিপি, এটি পুরোপুরি ঠিক না।'

ড. মোবাশ্বার হাসানে আরও বলেন, তরুণ কনসেপ্টটা বিরাজনীতিকরণ করা হয়েছে। যেমন নির্বাচনে সব তরুণ তো এনসিপিকে ভোট দেয়নি। এই জায়গায় এনসিপিকে আরও কাজ করতে হবে; যেন তারা তরুণদের কনফিডেন্স আরও আনতে পারে।