দেশজুড়ে টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে চলছে ভোট গণনা। এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনী লড়াইয়ে বড় ধরনের চমক দেখাচ্ছে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চারটি আসনের তিনটিতেই বেশ বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীরা। এখন পর্যন্ত পাওয়া কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে দেওয়া হলো।
১. রংপুর-১ আসনে ২২টি কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে। এখানে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ধানের শীষের চেয়ে দ্বিগুণ ব্যবধানে এগিয়ে আছে।
দাঁড়িপাল্লা: ২১,৪০৩ ভোট
ধানের শীষ: ১০,৪৭২ ভোট
২. পাবনা-১ আসনের ২০টি কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী বিপুল ভোটে এগিয়ে আছেন।
দাঁড়িপাল্লা: ১৭,১১৩ ভোট
ধানের শীষ: ৭,৫৭৬ ভোট
৩. রাজধানীর ঢাকা-১৩ আসনে মাত্র ৩টি কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে। এখানে দুই প্রতীকের মধ্যে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তবে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছে দাঁড়িপাল্লা।
দাঁড়িপাল্লা: ১,৩০২ ভোট
ধানের শীষ: ১,২৬৭ ভোট
৪. ফরিদপুর-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। ৭টি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষের প্রার্থী পেয়েছেন ৮,৫৫৫ ভোট। এ ছাড়া দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ৪,৬৬৬ ভোট।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শুরু হয় বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায়। দেশের ২৯৯টি আসনে শুরু হওয়া এ ভোটগ্রহণ চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। এখন চলছে গণনার কাজ।
তবে শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। নতুন তফসিল অনুযায়ী ওই আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, গণনার সময় প্রথমে সংসদ নির্বাচনের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালট আলাদা করা হবে। এরপর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পৃথকভাবে দুই ধরনের ব্যালট গণনা করবেন।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার এক হাজার ২৩২ জন।
ভোটের দিন সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। কোথাও কেন্দ্র দখল ও জালভোটের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। কিছু জায়গায় হামলা, সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় কয়েকজন আহত হন। খুলনায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে এক বিএনপি নেতা অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব ও আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর মোতায়েনের কারণে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। কোথাও ভোটগ্রহণ পুরোপুরি স্থগিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
আরটিএনএন