এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ। না যাওয়ার সিদ্ধান্ত কার এ ব্যাপারে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বক্তব্যে স্পষ্ট অমিল পাওয়া গেছে। যা এই ইস্যুটিকে নতুন করে উসকে দিয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় তীব্র আলোচনার পর কিছুক্ষণ আগে নিজের ফেসবুকে ক্রীড়া উপদেষ্টা নতুন করে ব্যাখা দিয়েছেন।
শুরুতেই তিনি লিখেছেন, গতকাল একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আমার বিভিন্ন প্রসঙ্গে আলাপ হয়। এক পর্যায়ে আমাকে প্রশ্ন করা হয়, বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো আক্ষেপ আছে কি না। আমি বলেছি, আক্ষেপের প্রশ্নই আসে না।
এরপর আসিফ নজরুল আরও লেখেন, আমি জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে বিভিন্ন বক্তব্যে স্পষ্টভাবে জানাই যে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলাটা সরকারের সিদ্ধান্ত। আমি অবশ্যই এই বক্তব্যে অটল আছি। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত কার নেওয়া- এটি কোনো আলোচ্য বিষয় ছিল না, এ-নিয়ে কোনো প্রশ্নও করা হয়নি।
কোন প্রেক্ষাপটে বক্তব্যটি দিয়েছেন আসিফ, সেটিও জানালেন ক্রীড়া উপদেষ্টা, গতকালের অনুষ্ঠানটি ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে খেলার মাঠের উন্নয়নের জন্য ২ কোটি টাকা চেক দেওয়ার অনুষ্ঠান। ক্রিকেটের এরকম স্পর্শকাতর সময়ে আমি তাদের এই বদান্যতায় কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। সেসময় সাংবাদিকরা যখন জিজ্ঞেস করেন, বিশ্বকাপ না খেলা নিয়ে কোনো দুঃখ আছে কি না, তখন আমার মনে হয়েছে, এখানে আমার বা সরকারের তো দুঃখের বিষয়টা মূল বিষয় নয়। মূল বিষয় হচ্ছে- ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের আত্মত্যাগ।
এরপরই জোড় দিয়ে আসিফ জানালেন সরকারের সিদ্ধান্তেই বিশ্বকাপে পাঠানো হয়নি লিটনদের, বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত অবশ্যই সরকার নিয়েছে, কিন্তু এটিও তো সত্যি যে, এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়রা বিনা প্রতিবাদে মেনে নিয়েছে।
সাংবাদিকদের বোঝাতে না পারাকে নিজের ব্যর্থতা উল্লেখ করে একদম শেষে আসিফ লেখেন, সাংবাদিক সম্মেলনে অপ্রস্তুত আলাপে বিষয়টি ভালো করে না বুঝিয়ে বলতে পারার ব্যর্থতা এখানে স্বীকার করে নিচ্ছি। আবারো দৃঢ়ভাবে জানিয়ে দিচ্ছি, বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে। কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্ত বোর্ড ও ক্রিকেটাররা মেনে নিয়েছে। না হলে এই সিদ্ধান্তে অটুট থাকাটা হয়তো এতোটা সহজ হতো না।