Image description

নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিকল্পিতভাবে জাতীয়তাবাদী যুবদলকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য, মিথ্যাচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না।

রোববার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এই অপপ্রচার নতুন মাত্রা পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে একটি মহল সুপরিকল্পিতভাবে যুবদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও গণজোয়ারে ভীত হয়েই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এসব মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছে। দেশের মানুষ আজ গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিএনপির পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা থামাতে ব্যর্থ হয়ে তারা কুৎসা, গুজব ও প্রোপাগান্ডার আশ্রয় নিয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জনগণের রায় কোনো কাগজে-কলমে লেখা স্ক্রিপ্ট নয়—এটি মানুষের নিজের লেখা, আর সেই রায় আজ স্পষ্টভাবে বিএনপির পক্ষেই।

 

সংবাদ সম্মেলনে যুবদল সভাপতি ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি ঘটনার মাধ্যমে অপপ্রচারের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন।

 

প্রথম ঘটনায় তিনি বলেন, সম্প্রতি কটুয়াখালী বাউলফলে একটি সাধারণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবদলকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তাৎক্ষণিকভাবে বাউলফল হাসপাতালে গিয়ে রোগী মোশাররফ হোসেনের শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়। হাসপাতালের আরএমওসহ উপস্থিত চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন, তার শরীরে এমন কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই, যা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রোগীর নিজের বক্তব্য ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছে, যেখানে তিনি জানান—তিনি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং একটি ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে রাজুরামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার হাতাহাতি হয়। অভিযুক্ত জামাল খানও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার বা যুবদলের কোনো নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততা নেই। তবুও ঘটনাটিকে রাজনৈতিক রং দিয়ে বিএনপি ও যুবদলের বিরুদ্ধে কুৎসিত অপপ্রচার চালানো হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, মোশাররফ হোসেন একজন শহীদ সাংবাদিকের পিতা। অথচ ওই শহীদ সাংবাদিক মেহেদীর স্ত্রী জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেছিলেন যে, সরকার থেকে প্রাপ্ত ১২ লাখ টাকা মোশাররফ হোসেন এককভাবে আত্মসাৎ করতে চেয়েছিলেন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন ২ লাখ টাকা মোশাররফ হোসেনকে এবং ১০ লাখ টাকা শহীদ সাংবাদিকের স্ত্রীকে প্রদান করে। স্থানীয় সাংবাদিকদের বরাতে তিনি জানান, মোশাররফ হোসেন একজন প্রতারক ও মাদকসেবী হিসেবেও পরিচিত।

 

দ্বিতীয় ঘটনায় মোনায়েম মুন্না বলেন, গত ২৯ জানুয়ারি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের বাক্সব্রিজ এলাকায় একটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর কুষ্টিয়া-৩ আসনের প্রার্থী মুফতি আমির হামজা প্রকাশ্যে মিথ্যাচার করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা ও শোনা যায়—স্থানীয় যুবদল কর্মী নাসির মোটরসাইকেল থেকে নামেননি, কোনো হামলা হয়নি এবং কোনো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি। সকাল ১১টায় স্থানীয় জনগণের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে কথোপকথন হয়। তবুও মুফতি আমির হামজা তার ফেসবুক পোস্ট ও পথসভায় সম্পূর্ণ মনগড়া ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে নারীদের ওপর হামলা, লিফলেট কেড়ে নেওয়া এমনকি নিজের মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের মতো গুরুতর মিথ্যাচার করেন। তিনি বলেন, এটি নারীর সম্মান, মায়ের মর্যাদা ও ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা।

 

তৃতীয় ঘটনায় তিনি বলেন, গত ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোলন্দপুরে করিম ফিলিং স্টেশনে তেলের টাকা চাইতে যাওয়ার ঘটনায় একজন শ্রমিক নিহত হন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ আবুল হাসান সুজনকে ‘যুবদল নেতা’ পরিচয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়। অথচ প্রকৃতপক্ষে তিনি ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি রাজবাড়ী শহরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা যুবদলের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন, যা দৈনিক মানবজমিনসহ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এরপর থেকে তার সঙ্গে যুবদলের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তিনি আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। প্রায় সাত বছর আগে পদত্যাগ করা একজনকে যুবদল নেতা হিসেবে প্রচার করাকে তিনি দুঃখজনক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেন।

 

চতুর্থ ঘটনায় তিনি বলেন, গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানাধীন চর মানিকা ইউনিয়নের চামেরী আবাসন প্রকল্পে হাজীরা বেগম ও তার প্রতিবেশী মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের মধ্যে সংঘটিত একটি পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধকে রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। যুবদল বা বিএনপির কোনো অংশের সঙ্গে এ ঘটনার সম্পৃক্ততা ছিল না। তবুও যুবদলের নাম জড়িয়ে ভুয়া ফটোকপি তৈরি করে অপপ্রচার চালানো হয়। তিনি জানান, ঘটনার পাঁচ দিন পার হলেও হাজীরা বেগম থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি এবং ঘটনাস্থলে জামায়াতে ইসলামীর কিছু নারী কর্মী দিনরাত অবস্থান করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছে।

 

পঞ্চম ঘটনায় তিনি বলেন, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ নারায়ণগঞ্জ উপজেলায় একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে এক রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায়ও অযৌক্তিকভাবে যুবদলকে জড়িয়ে দেওয়া হয়। অথচ ওই ঘটনার সঙ্গে যুবদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

 

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে মোনায়েম মুন্না বলেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই কেন যুবদলকে টার্গেট করে সাজানো নাটক, মিথ্যা ভিডিও, বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা ও আবেগকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা চলছে—এই প্রশ্ন দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে চান তিনি। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, জাতীয়তাবাদী যুবদল এসব মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের কাছে মাথা নত করবে না। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী যুবদল পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রাজপথে, গণমাধ্যমে ও আইনি লড়াইয়ে কঠোর অবস্থান নেবে।

 

শেষে তিনি গণমাধ্যমকর্মীসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান—সত্য যাচাই করুন, অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না এবং গণতন্ত্র ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ রক্ষায় সচেতন ভূমিকা পালন করুন।