রাজশাহী বিভাগের আটটি আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটে বিশৃঙ্খলা রয়ে গেছে। বিভাগের ৩৯টি আসনের কোনোটিতেই ছাড় না পাওয়া এবি পার্টির প্রার্থীরা ৭টি আসনে জামায়াত ও এনসিপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটের মাঠে রয়েছেন। এ ছাড়া জোটের আরেক শরিক এলডিপির প্রার্থীর বিরুদ্ধেও প্রচারের মাঠে রয়েছেন এবি পার্টির প্রার্থী।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের আট জেলার ৩৯টি আসনের মধ্যে ৩৭টি আসনের প্রার্থিতা চূড়ান্ত হয়েছে। গত বুধবার প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীকও বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পুনঃ তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আসন দুটিতে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৬ জানুয়ারি। ২৭ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনে জামায়াত প্রার্থী আব্দুল হাকিমের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন এবি পার্টির মোকছেদুল মোমিন। নওগাঁ-২ (পত্নীতলা-ধামইরহাট) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এনামুল হক। এ আসনে আছেন এবি পার্টির প্রার্থী মতিবুল ইসলাম। জয়পুরহাট-২ (কালাই-ক্ষেতলাল-আক্কেলপুর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী এস এম রাশেদুল আলম। এখানে এবি পার্টিরও প্রার্থী আছেন কেন্দ্রীয় উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান-বিষয়ক সম্পাদক এস এ জাহিদ।
সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে জোটের প্রার্থী এনসিপির এস এম সাইফ মোস্তাফিজের সঙ্গে ভোটের মাঠে আছেন এবি পার্টির আবু জাফর মো. আনোয়ারুস সাদাত।
আর পাবনা-৫ (সদর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী ইকবাল হোসাইনের সঙ্গে লড়ছেন এবি পার্টির প্রার্থী আব্দুল মাজীদ মোল্লা।
রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তাঁর সঙ্গে ভোটের মাঠে আছেন এবি পার্টির রাজশাহী জেলা ও মহানগরের সমন্বয়ক আব্দুর রহমান মুহসেনী।
রাজশাহী-২ (সদর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মহানগরের নায়েবে আমির ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের সঙ্গে আছেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির ১ নম্বর সাংগঠনিক সম্পাদক মু. সাঈদ নোমান। আর বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে জামায়াতের প্রার্থী দবিবুর রহমানের সঙ্গে এলডিপির প্রার্থী খান কুদরত-ই সাকলায়েন ভোটের মাঠে রয়েছেন।
রাজশাহী-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এবি পার্টি আমাদের জোটসঙ্গী। কিন্তু আমার আসনে এবি পার্টির প্রার্থী আছেন। প্রতীক বরাদ্দ নিতে গিয়ে এবি পার্টির প্রার্থী সাঈদ নোমানের পাশেই বসেছিলাম। আমি তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম। কিন্তু তাঁর যে জবাব, সেটা সন্তোষজনক নয়। তাঁদের চেয়ারম্যান নাকি বলেছেন, কিছু আসন ওপেন থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘এটা জোটের শীর্ষ নেতৃত্বকে অবহিত করব। কারণ, আমরা নিজেদের প্রার্থীর জন্য ভোটের মাঠে যা করি, জোটের প্রার্থীর জন্যও তা-ই করি। তাঁদেরও এটা করা উচিত।’
জানতে চাইলে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের প্রতিদ্বন্দ্বী এবি পার্টির প্রার্থী সাঈদ নোমান বলেন, ‘প্রতিটি দলেরই কিছু পলিসি থাকে। দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। কিন্তু প্রত্যাহার করে নিতে বলেনি।’
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নির্বাচনী ঐক্যের কারণে রাজশাহী বিভাগের তিনটি আসনে ছাড় দিয়েছে জামায়াত। সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে জোটের হয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আব্দুর রউফ সরকার, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে এনসিপির এস এম সাইফ মোস্তাফিজ এবং নাটোর-৩ আসনে এনসিপির এস এম জার্জিস কাদির নির্বাচন করছেন।
বিভাগের ৩৭টি আসনে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের হয়ে জামায়াতের প্রার্থী ৩৪টি আসনে। একটি পেয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আর দুটি এনসিপি। জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির কোনো প্রার্থী নেই।