ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-২ আসনে (আক্কেলপুর-ক্ষেতলাল-কালাই) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল বারী ও জামায়াতে ইসলামীর রাশেদুল আলমকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। দুজনকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আগামী ১১ জানুয়ারি লিখিত কারণ দর্শাতে বলেছেন জয়পুরহাট নির্বাচনী বিচারিক অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির জ্যেষ্ঠ বিচারক ফয়সল আহমেদ।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) কারণ দর্শানোর নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘মো. আব্দুল বারী বিএনপি মনোনীত জয়পুরহাট-২ আসনের প্রার্থী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে (ফেসবুক পেজ সবার আগে বাংলাদেশ, হৃদয়ে বারী স্যার ও হানিফ মোহাম্মাদ) দেখা যায়, আপনার সমর্থকরা গত ২৩ ডিসেম্বর, ২৮ ডিসেম্বর ও ৪ জানুয়ারিসহ বিভিন্ন তারিখে জয়পুরহাট-২ আসনের বিভিন্ন এলাকায় এবং হাটবাজারে আপনার ছবি সংবলিত ধানের শীষ মার্কার হ্যান্ড বিল নিয়ে গণসংযোগ ও প্রচার প্রচারণা করেছেন। যা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আপনার বিরুদ্ধে কেন আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে না তৎমর্মে কারণ দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করা হলো।’
অপরদিকে জামায়াত প্রার্থী রাশেদুল আলমের নোটিশে বলা হয়েছে, ‘এস এম রাশেদুল আলম জামায়াতে ইসলামী দলের মনোনীত জয়পুরহাট-২ আসনের প্রার্থী। আপনার ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে (রাশেদুল আলম সবুজ) গত ২৭ ডিসেম্বর, ১ জানুয়ারি ও ৪ জানুয়ারিসহ বিভিন্ন তারিখে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চেয়ে আপনার ছবি সংবলিত পোস্টার নির্বাচনী প্রচারণার জন্য পোস্ট করা হয়েছে। যা রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর বিধি ১৮ লঙ্ঘন বলে প্রতীয়মান হয়। আপনার বিরুদ্ধে কেন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে না কিংবা অপরাধ আমলে নিয়ে আপনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না মর্মে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ১১ জানুয়ারি কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হলো।’
এ দুই দলীয় প্রার্থীদের এমন কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ এর বিধি ১৮ লঙ্ঘন। এ অবস্থায় কেন তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন বরাবর প্রতিবেদন প্রেরণ করা হবে না কিংবা অপরাধ আমলে গ্রহণপূর্বক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। তা স্ব-শরীরে হাজির হয়ে লিখিতভাবে প্রার্থীদের কাছ থেকে ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। এর ব্যর্থতায় তাদের বিরুদ্ধে আইনিব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
কারণ দর্শানোর নোটিশের অনুলিপি নির্বাচন কমিশন সচিব ঢাকা, জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ছয়জনকে পাঠানো হয়েছে।