Image description

তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের অসন্তোষ নিরসনে সরকারের ব্যর্থতা শিল্প খাতকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। মজুরি বোর্ড গঠন ও সরকারের উদ্যোগের বিলম্বের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ১৫ অক্টোবর মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ড গঠন করতে ১ নভেম্বর পর্যন্ত সময় লাগে। প্রথম সভা হয় ৪ নভেম্বর। শ্রমিক অসন্তোষ বাড়তে থাকার মধ্যে এতদিন কার্যকর আলোচনা ও সমাধানের উদ্যোগ না নেওয়া সরকারের সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মজিবুর রহমান মঞ্জু এসব কথা বলেন।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, শ্রমিকদের দাবি ও অসন্তোষকে শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায্যতার প্রশ্ন। শ্রমিকের অধিকার এবং পোশাকশিল্পের স্বার্থ পরস্পরবিরোধী নয়। শ্রমিককে ন্যায্য মজুরি দিতে হবে। একই সঙ্গে শিল্পের কর্মসংস্থান ও উৎপাদন সক্ষমতা রক্ষা করতে হবে। তবে শ্রমিকের অধিকার ও শিল্পের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাকশিল্প থেকে। প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক সরাসরি এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। কাজেই পোশাকশিল্পের সংকট শুধু মালিকদের ব্যবসায়িক সমস্যা নয়; এটি জাতীয় অর্থনীতি ও লাখ লাখ পরিবারের জীবিকার প্রশ্ন। দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াতব্যয় যেভাবে বেড়েছে, তাতে বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিকে তাই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

এবি পার্টির নেতা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে রয়েছে। উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি ও অর্থায়নের খরচ বাড়লেও আন্তর্জাতিক ক্রেতারা অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের ন্যায্য মূল্য দিচ্ছে না। ফলে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির পুরো চাপ শুধু কারখানার মালিকদের ওপর ছেড়ে দিলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলো সংকটে পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদেরও শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার দায় নিতে হবে।

শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের ভূমিকার সমালোচনা করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের দায়িত্ব নয়। দেশে পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকা সত্ত্বেও বিএনপির নেতাকর্মীদের লাঠিসোঁটা নিয়ে রাজপথে নামতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতির খবরও এসেছে। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা কেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করবেন? একই ভুল আওয়ামী লীগও করেছিল।

গাজীপুরে আন্দোলনকারী তৌফিক হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে মঞ্জু বলেন, এই মৃত্যুর জন্য কারা দায়ী, শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় কারা জড়িত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছে কি না, তা তদন্ত করে জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।