Image description

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির নজিরবিহীন ভরাডুবি পর দলটিতে ভাঙন ও চরম অভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা দিয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ, রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলোর ওপর শুল্ক চাপানো, অভিবাসন এমনকি ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি নিয়ে তীব্র চাপে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

 

রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ২০২৮ সালের পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। নির্বাচনের কৌশলগত প্রস্তুতি হিসেবে দলছুট ও অসন্তুষ্ট সমর্থকদের নিয়ে তিনি একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এই কৌশলের বিষয়ে অবগত ও ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ ও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ভোটারদের কাছে টানতেই ভ্যান্স এই ‘নতুন ডানপন্থি’ বলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন। বিশেষ করে যেসব রিপাবলিকান সমর্থক ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পররাষ্ট্রনীতি, ইসরায়েলের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক ও বিতর্কিত যুদ্ধের সিদ্ধান্তের কঠোর বিরোধী, তাদের নিজের শিবিরে আনার চেষ্টা করছেন সাবেক এই মার্কিন সিনেটর।

 

নির্বাচন-পরবর্তী আলোচনা সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বিত বার্তা প্রচারের বিষয়ে ঐকমত্য তৈরির লক্ষ্যে বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে হোয়াইট হাউসে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দেন ভ্যান্স। সেখানে তিনি এক জরিপকারীর বক্তব্য উদ্ধৃত করেন। ওই বক্তব্যে হারানো ভোটারদের ফিরিয়ে আনতে চারটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এগুলো হলো ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের পরিবর্তন।

 

 

২০২৮ সালের নির্বাচনের প্রস্তুতি

 

ইরানের সঙ্গে সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে ভ্যান্স এক্সে লেখেন, ‘আমাদের হারের কারণ হলো যুদ্ধ।’ তিনি আরও লেখেন, ‘প্রেসিডেন্ট নিজেই গত রাতে এ কথা বলেছেন।’

 

হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা ফক্স নিউজকে বলেছেন, ভ্যান্সের তুলে ধরা চারটি বিষয় মূলত ‘নব্য ডানপন্থিদের’ প্রতি তার আহ্বান। এই রাজনৈতিক গোষ্ঠীর উদ্ভব ট্রাম্পের মূল ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ আন্দোলন থেকে। তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ইসরায়েলের সঙ্গে অতিমাত্রায় ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়েছে।

 

ওই কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন, ভ্যান্সের এই অবস্থান ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বিচ্ছেদ নয়। বরং যেসব ভোটার ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে সমর্থন করেন, কিন্তু তার আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে একমত নন কিংবা নিজেদের বিচ্ছিন্ন মনে করেন, তাদের কাছে পৌঁছানোর একটি কৌশল।

 

২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার আগে পরবর্তী প্রজন্মের রক্ষণশীল নেতৃত্বকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ভ্যান্সের এই উদ্যোগকে তুলে ধরেছেন ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘ভ্যান্সই আমাদের লোক।’

 

মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের পরপরই রিপাবলিকান দলের ভেতরে কাদা ছোড়াছুড়ি ও নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র দ্বিমতের মধ্যে আশার প্রদীপ হয়ে উঠেছে জেডি ভ্যান্স। ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে ভ্যান্সের নাম বিশেষভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও পরবর্তী রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নামও আলোচনায় রয়েছে।

 

প্রশাসনের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ফক্স নিউজ জানিয়েছে, রিপাবলিকান পার্টির একটি বড় অংশের কাছে ভ্যান্সের মূল বার্তা হলো, ‘ভ্যান্সই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রার্থী।’ কারণ, দলটির অনেকেই মনে করেন, গত দুই বছরে ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের পছন্দের রাজনৈতিক অবস্থান থেকে খুব একটা সরে আসেননি ভ্যান্স। তবে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশকারী প্রশাসনের অল্প কয়েকজনের মধ্যে তিনি একজন।

 

প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত বৈঠক ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ভ্যান্সের দেওয়া বার্তা সম্পর্কে মন্তব্য জানতে ফক্স নিউজ হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো জবাব পায়নি।