Image description

ঐতিহাসিক জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে জনগণের স্পষ্ট রায় থাকা সত্ত্বেও সরকার তা বাস্তবায়ন না করে ধোঁকাবাজি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।

শনিবার রংপুর জেলা পরিষদ কমিউনিটি সেন্টারে রংপুর মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত রুকন সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সম্মেলন শেষে আমীর নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি ও সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

 

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াতের এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জামায়াতে ইসলামীসহ ২৫টি রাজনৈতিক দল জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছিল। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির আদেশে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদের পক্ষে রায় প্রদান করেন। এই গণভোট ও নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে জনপ্রতিনিধিরা সরকার গঠন করলেও জনগণের সেই রায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না।

 

প্রধানমন্ত্রী বিগত প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আব্দুল হালিম বলেন, রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করতে এসে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণভোটের পক্ষে ভোট চেয়েছিলেন। অথচ ক্ষমতায় এসে বিএনপি ‘অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের’ কথা বললেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে সংস্কারের বদলে নানা কমিটি গঠন করে জনগণকে ধোঁকা দিচ্ছে।

 

তিনি অনতিবিলম্বে ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ ও মুগ্ধসহ ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মূল্যায়ন করে কোনো ধরনের টালবাহানা ছাড়া গণভোটের রায় ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান।

 

জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চার চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, জামায়াত একটি নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পর কেন্দ্রীয় এবং প্রতি দুই বছর পর জেলা ও মহানগরী পর্যায়ের আমীর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

 

আজকের সম্মেলনে রংপুর মহানগরীর ২০২৭ ও ২০২৮ সেশনের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে পুরুষ ও নারী রুকন ভোটাররা অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্ত ও আনন্দমুখর পরিবেশে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। প্রদত্ত সব ভোট গণনা শেষে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীর নাম জামায়াতের আমীর ঘোষণা করবেন এবং পরবর্তীতে তাঁকে শপথ পাঠ করাবেন বলে তিনি জানান।