বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘জনগণের হক মেরে বিরোধী দলকে উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের চোখে জামায়াতকে ভোট দেওয়া মানুষ যেন এ দেশের নাগরিক নন। শুধু বিএনপির ভোটাররাই সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, এমন বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে।’
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘বিএনপির এমপিদের এলাকায় একের পর এক প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করা হলেও জামায়াতসহ ১১ দলের এমপিদের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য করা হচ্ছে। তাদের প্রাপ্য সাধারণ বরাদ্দও কাটছাঁট করে নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করা হচ্ছে। আর বিশেষ বরাদ্দের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে লুটপাটের নেশায় মেতে উঠেছে সরকার।
তিনি বলেন, ‘অনিয়মতান্ত্রিক কাজে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিযোগিতা চলছে। এর ফলে দলটির মধ্যে অন্তর্কোন্দল দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার ঘটনায় এর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।’
বিশেষ করে ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পে নিয়োগকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করেছে দাবি করে জামায়াত নেতা বলেন, ‘কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ, অর্থ গ্রহণ, দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির মতো ঘটনা ঘটছে। শুধু ফ্যামিলি কার্ড নয়, সাংবিধানিক আটটি গুরুত্বপূর্ণ পদেও নিজেদের লোক নিয়োগ দিয়ে বিএনপি সরকার অনিয়ম-দুর্নীতি করেছে। জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মেয়র পদেও দলীয় নেতাদের বসানো হয়েছে।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াতের সেক্রেটারি পরওয়ার বলেন, ‘এমপিদের স্বাধীনভাবে ও গোপনে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে ১১ দল মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। কিন্তু সংবিধানের ৭৩ অনুচ্ছেদ তাদের দলীয় প্রার্থীকে ভোট দিতে বাধ্য করে রেখেছে। এ ধরনের নিয়ম পরিবর্তনের জন্য সংবিধান সংস্কার প্রয়োজন।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ঐকমত্য কমিশনে সম্মত হয়েও তারা সংস্কার কমিশনকে অস্বীকার করছে। নিজেদের সুবিধা হয় এমন বিষয় মানলেও দেশ ও জনগণের জন্য ভালো হবে এমন বিষয় বাস্তবায়ন করছে না সরকার।’
এর আগে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুরে পৌঁছান। সৈয়দপুর শহরের আল ফারুক একাডেমিতে অনুষ্ঠিতব্য রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক কর্মপরিষদ সদস্যদের দুদিনব্যাপী কর্মশালা উদ্বোধন করেন তিনি।