Image description

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেপিআই ঘোষণার মাত্র দেড় মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত বাসভবন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পেলেন আওয়ামীপন্থি প্রকৌশলী নিমিতোষ ওঝা।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে গত ২ আগস্ট তাকে বদলি করা হয়। এর আগে দীর্ঘদিন তিনি ফরিদপুরের গণপূর্ত অফিসে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। যে বাড়িতে স্ত্রী-কন্যাসহ বসবাস করেন প্রধানমন্ত্রী, সেই বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী আওয়ামীপন্থি প্রকৌশলী পাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গুলশান নর্থ অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাড়িতে স্ত্রী ও কন্যাসহ বসবাস করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ১৬ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা-৩ শাখা থেকে জারি করা এক আদেশে প্রধানমন্ত্রীর গুলশানের এই ব্যক্তিগত বাসভবনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিশেষ শ্রেণির’ কেপিআই হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তবে কেপিআই ঘোষণার দেড় মাসের মাথায় গত ২ আগস্ট, ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত নিমিতোষ ওঝাকে ঢাকা গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ উপ-বিভাগ-২ (শাখা-১)-এ বদলি করা হয়। এই শাখার প্রত্যক্ষ রক্ষণাবেক্ষণেই রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন।

নিমিতোষ ওঝার ফেসবুক প্রোফাইল পর্যালোচনা ও এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধানে দেখা যায়, গোপালগঞ্জের বাসিন্দা নিমিতোষ সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজে লেখাপড়ার সময় ছিলেন ছাত্রলীগের পদধারী নেতা। চাকরিজীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন ফরিদপুর গণপূর্ত কার্যালয়ে। সরকারি চাকরি করেও ফেসবুকে আওয়ামী লীগের কর্মীর মতো পোস্ট করতেন তিনি। ফেসবুক যাচাই করে তার তিনটি আইডি খুঁজে পাওয়া যায়। এতে দেখা যায়, তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষে বিভিন্ন বিষয়ে পোস্ট দিতেন এবং শেয়ার দিতেন। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু 'ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজনীতির সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সংস্থাটির ইতিহাসে সম্প্রতি প্রথমবারের মতো লটারির মাধ্যমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি প্রক্রিয়া শুরু করে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, এই লটারি প্রক্রিয়ার সুযোগ নিয়ে বা নীতিগত ফাঁকফোকর ব্যবহার করে স্পর্শকাতর ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর দেখভালের দায়িত্বে বিগত সরকারের দলীয় রাজনৈতিক অনুসারীদের পদায়ন করা হচ্ছে।

নিমিতোষ ওঝা এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমার বাড়ি গোপালগঞ্জ; এটা তো হাইড (গোপন) করার জিনিস না। তবে আমি ছাত্রলীগ করতাম না। তা ছাড়া আমার বদলি হয়েছে লটারির মাধ্যমে, এটা আমার হাতে না।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, এই পোস্টিং বা কোনো বিষয় এখনও তিনি শোনেননি। জানার পরে বিস্তারিত বলা যাবে।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান এবং প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রিসিভ করেননি।