১১ দলীয় ঐক্য জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিতব নাকি হারব সেটি মুখ্য নয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া নির্বাচন হোক, সেটি আমরা চাই না। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতি পদে ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়ন জমা দিয়ে তিনি একথা বলেন।
গণতন্ত্র চর্চার নতুন ধারা সৃষ্টি করতেই ১১ দলীয় জোট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে উল্লেখ করে হামিদুর রহমান বলেছেন, আমরা ১১ দলের বৈঠক করে শীর্ষ পর্যায় থেকে ডক্টর কর্নেল অলি আহমদকে আমরা মনোনয়ন দিয়েছি। এখনো জাতির কাছে আলোচিত প্রশ্ন একটা হলো— আপনাদের তো মেজরিটি নেই, তাইলে আপনারা কেন এখানে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন? আমরা ভেরি শার্পলি এবং ক্লিয়ারলি বলেছি, বাংলাদেশের গণতন্ত্র চর্চার নতুন ধারা আমরা সৃষ্টি করতে চাই।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এখানে আমরা জিতবো কি হারবো এটা নয়। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া কোন নির্বাচন হোক এটা আমরা চাই না। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্যেই আমরা এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছি।
তিনি আরও বলেছেন, এমন একজন প্রার্থীকে আমরা এখানে নমিনেশন দিয়েছি যিনি জাতীয়ভাবে সমালোচনা-বিতর্কের ঊর্ধ্বে এবং দেশের খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। তিনি তিনবার মন্ত্রী ছিলেন, ছয়বার এমপি ছিলেন। উনি পিএইচডি হোল্ডার, উচ্চ ডিগ্রিধারী এবং দেশের জন্য অনেক অবদান তিনি রেখেছেন।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে হামিদুর রহমান আজাদ বলেছেন, গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা একটি বাধা তৈরি করেছে। সেটা হচ্ছে আর্টিকেল ৭০। ঐকমত্য কমিশনে আমরা সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতামত দেওয়ার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেছি। সেখানে বিএনপিসহ যারা ঐকমত্যে ছিলেন, আমরা প্রায় তিন দিন আলোচনা করার পর সবাই একমত হয়েছিলাম যে, অনাস্থা ভোট ও অর্থবিল ছাড়া অন্য সব বিষয়ে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে মত দিতে ও ভোট দিতে পারবেন।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, দুর্ভাগ্যজনক হলো— গণভোটে এটা পাশ হওয়ার পরেও ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপির একগুঁয়েমি ও দলীয় সংকীর্ণতার কারণে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়নি। গণতন্ত্রকে জনগণের অধিকারের জায়গা থেকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে উনাদের গড়িমসির কারণে এই সংস্কারটা উনারা করছেন না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন হতো, তাহলে আমরা আশা করতাম কর্নেল অলি বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন। কারণ সংসদ সদস্যদের কাছে উনি একজন গ্রহণযোগ্য, যোগ্য প্রার্থী।