Image description

কক্সবাজারের টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামকে নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ ঝেড়েছেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম। তিনি অভিযোগ করেছেন, বর্তমান প্রশাসনের দুর্বল কর্মকর্তাদের দিয়ে টেকনাফের অপহরণ ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ জন্য দ্রুত প্রশাসনে সৎ ও সাহসী কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আজ শুক্রবার বিকালে টেকনাফ পৌর বিএনপির আওতাধীন ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন আব্দুল কাইয়ুম।

টেকনাফ থানার ওসিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেছেন, ‘একটা কনস্টেবলের মতোও লাগে না ওসিকে। আমার তো মনে হয় না, এই ওসি দিয়ে টেকনাফের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।’

আব্দুল কাইয়ুম বললেন, ‘টেকনাফ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তিনি যেভাবে দেখছেন, তাদের দিয়ে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ বন্ধ করতে হলে প্রশাসনে সৎ ও সাহসী কর্মকর্তা প্রয়োজন।’

তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রতি প্রশাসন পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘এখানে সৎ ও সাহসী অফিসার দরকার আছে।’

টেকনাফে মাদক ও অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে যুবদল নেতা মন্তব্য করেন, ‘সরকার এসব অপরাধ দমনে আইন করেছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে এসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সভা করেছেন। টেকনাফের ইয়াবা ব্যবসায়ী ও অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাদের সম্পত্তিও থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি ‘

যুবদল নেতার বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে নানা মন্তব্য দেখা গেছে। কেউ তার বক্তব্যকে সমর্থন করলেও কেউ কেউ এর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলে প্রশ্ন তুলেছেন।

হেলাল নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন, ‘হয়তো অন্যায় আবদার বা তদবির না শোনার কারণে ওসিকে নিয়ে এরকম মন্তব্য করা হচ্ছে।’

তবে আব্দুল কাইয়ুমের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে যুবদল নেতার অভিযোগের বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ‘অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ নিয়মিত কাজ করছে।’

তার ভাষ্য, ‘আমরা সবসময় অপহরণের ঘটনাগুলো নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। টাকা লুটের ঘটনাসহ বিভিন্ন অপরাধের বিষয়ে আমার পুলিশ সদস্যরা নিয়মিত দৌড়ঝাঁপ করছেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।’

আব্দুল কাইয়ুমের সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ নেই দাবি করে ওসি বললেন, ‘তার সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। কী কারণে তিনি এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন, সেটা তিনি ভালো জানেন। আমি আমার জায়গায় ঠিক আছি এবং দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি।’

টেকনাফে সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণ, মাদক পাচার ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার প্রকাশ্য এমন বক্তব্য নতুন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।