Image description

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দের উপরে উঠে সত্য এবং ন্যায় কথা বলার লোক কম। যে যেই রাজনীতি করে, নির্লজ্জভাবে তার পক্ষে দাঁড়ায়, এবং এই কম্প্রোমাইজের কোন থ্রেশহোল্ড নাই।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) ফেসবুকে মির্জা গালিব এমন পোস্ট দেন।

তিনি লেখেন, যেমন ধরেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে করা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বিএনপি সরকার এসে সংসদে বাতিল করে দিছে, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশও বাদ দিয়ে দিছে। এইজন্য শহীদ ইলিয়াস আলীর স্ত্রীকে আপনি ভোকাল হতে দেখবেন না। মায়ের ডাকের তুলি আপাকেও না। অথচ, এইটাই উনাদের রাজনীতির ডেফিনেশন ছিল। এই ইস্যুতে যদি উনারা স্ট্যান্ড না নিতে পারেন, তাইলে আর কোন ইস্যুতে নিবেন? এইটা উনাদের জন্য নো কম্প্রোমাইজ জোন হওয়ার কথা ছিল।

‘জোনায়েদ সাকি লম্বা দিন রাষ্ট্র সংস্কারের আলাপ করছে। আজকে উনি যেই সরকারের মন্ত্রী হইছেন, সেই সরকার গণভোট, সংবিধান সংস্কার - এই সবের বারোটা বাজিয়ে ফেলছে। কিন্তু তাতে জোনায়েদ সাকির বিএনপি সরকারের সাথে কোন অনুরাগ-বিরাগ তৈরি হইতেছে না। কোন স্ট্রং প্রতিবাদী রাজনৈতিক পজিশন নেয়ার প্রয়োজন বোধ করতেছেন না উনি।’

আন্দালিব পার্থকে দেখলাম কিছুদিন আগে সংসদে দাঁড়াইয়া উনার আগের বক্তব্যের একশ আশি ডিগ্রি উল্টা বক্তব্য দিতেছেন। আগে ৭২-এর সংবিধান ছিল উনার কাছে শোষণের হাতিয়ার, আর এখন খুব পবিত্র সংবিধান।

এই সমস্যা ইকুয়ালি জামায়াতপন্থী লোকদেরও সমস্যা। দলের ভাল-মন্দ সব কিছুকে যে কোনভাবে জাস্টিফাই করতে কমফোর্ট ফিল করে, এই রকম লোকের সংখ্যা জামায়াতেও অনেক।

এই নীতিহীনতার যুগে, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির নিজের দলের পজিশনের বিপক্ষে মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশের পক্ষে সংসদীয় কমিটিতে উনার ডিসেন্ট লিখিতভাবে দিছেন। বাংলাদেশে এইটুকু মোরালিটি সম্পন্ন লোক খুব কমই আছে।

সব দলে এইরকম গাটস সম্পন্ন মোরাল লোকের সংখ্যা না বাড়লে দেশের পরিবর্তন আসবে না।