রাজধানীর দক্ষিণ খানে স্যুয়ারেজ লাইনের মাটি বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় যুবদল নেতা রাসেল সরকারসহ তিনজনের মাথা ফাটানোর অভিযোগ উঠেছে বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হোসেন শান্ত ও একদল নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শান্তর বিচার চেয়ে দক্ষিণখান এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন যুবদল নেতারা।
শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে হামলার অভিযোগে রাসেল সরকার নিজে বাদী হয়ে শান্তসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করে দক্ষিণখান থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী রাসেল সরকার সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণখানে সরকারি কাজের অতিরিক্ত মাটি আল আমিন শান্ত বিক্রি করছেন কয়েক দিন ধরে। এখান থেকে কিছু মাটি পাশের আরেকটি রাস্তায় ফেলার জন্য বলেন রাসেল, যেটিতে চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। সেই রাস্তায় ৮-১০ গাড়ি মাটি ফেলার খরচ দেওয়ার কথাও বলেন রাসেল।
আহত রাসেল বলেন, ‘কিন্তু শান্ত আমার কথা না শুনে উল্টো আমাকে থ্রেড দিতে থাকে। একপর্যায়ে আমি তাকে বলি এগুলো রাস্তার মাটি, সরকারি মাটি। এ কথা বলার সাথে সাথে সে আমিসহ আমার সাথে থাকা কয়েকজনের উপর হামলা করে। একপর্যায়ে সে আমাকেসহ তিনজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে রড দিয়ে পিটিয়ে মাথা ফাঁটিয়ে দেয়। শরীরেও আঘাত করে। আমরা গুরুতর জখম হই।’
জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর থেকেই আল আমিন শান্ত একের পর মারামারি, দখল, চাঁদাবাজির সাথে জড়িত হয়ে নানা অপকর্ম করছেন। জাতীয় নির্বাচনের পর তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তার বিরুদ্ধে মারধর করার পাশাপাশি নির্মাণধীন ভবন, বিভিন্ন মালামালের গাড়ি ও স্থানীয় দোকানপাট থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগ আছে। রাতে দক্ষিণখান বাজার দিয়ে মালামাল নিয়ে গাড়ি গেলে চাঁদা দিতে হয় বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সম্পাদক আল আমিন শান্তকে।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি আল আমিন, বিমানবন্দরের এলডি তেলের পাম্পের স্টাফদের মারধর করেন। একপর্যায়ে পাম্পের ক্যাশ লুট করে প্রায় ৯০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় উত্তরা পূর্ব থানায় একটি মামলা হয় তার বিরুদ্ধে।
এসব বিষয়ে আল আমিনের বক্তব্য জানতে তার ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।