Image description
সময়ের ভাষা বোঝা জরুরি। স্বাধীনতার পরে বাংলা ভাষার ওপর কোনো আঘাত আসার সুযোগ নাই। উল্টো আমরা নিজেরাই নিজেদের ধনসম্পদ ব্যয় করছি ইংরেজি শেখার জন্য। 
 
বর্তমানে পার্শ্ববর্তী দেশে হিন্দু সাম্প্রদায়িকতা চরমে। পশ্চিমবঙ্গেও গেরুয়া সন্ত্রাস চলছে। তারা প্রতিদিন আমাদের সরকার এবং নেতাদের গালাগালি দিচ্ছে। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষের মনে ভাষার প্রশ্নের চেয়ে বেশি নাড়া দিবে তাদের কথা যারা আমাদেরকে তাদের থেকে আলাদা করতে ভূমিকা রেখেছিল - শেরে বাংলা ফজলুল হক, হুসেইন শহিদ সোহরাওয়ার্দী এবং মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। এই অবস্থায় শুধু উর্দু ভাষার পক্ষে তাও ইংরেজিতে  বক্তৃতা দেওয়ার কারণে অতি জিন্নাহ বিরোধী পলিটিক্স বা ব্যক্তি জিন্নাহর ওপর অতিরিক্ত ঘৃণা পোষণ মানুষ ঐতিহাসিক অজ্ঞতা হিসেবে বিবেচনা করবে। 
 
প্রথমে মুর্শিদাবাদের মানুষ পূর্ব পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মিষ্টি বিতরণ করেছিল। কিন্তু পরে ভারতের অংশ হয়েছে দেখে তারা মর্মাহত হয়। তাদের সেই দুঃস্বপ্ন এখনও কাটেনি। মোদি- শুভেন্দুদের যত উত্থান হবে মানুষ ততই জিন্নাহর দিকে ফেরত যাবে। এই জায়গায় আমাদের যাত্রাপথ ঠিক করতে হবে, আমরা কোনদিকে যাব।
 
জামায়াত শিবির কট্টর জিন্নাহবিরোধী হয়েও এখন অতি জিন্নাহপ্রেমী হয়েছে নিজেদের কলঙ্কমুক্ত করতে। জিন্নাহকে ঢাল বানিয়ে নিজেদের ঐতিহাসিক দায়মোচন করতে চায়। তাদের রাজনীতি মোকাবেলা করার জন্য তাদের স্ববিরোধী, হিপোক্রেসি তুলে ধরাই যথেষ্ট। কাফেরে আজম, নাপাকিস্তান,  জামায়াতে জাহেলিয়াত বলে আবার যদি জিন্নাহর পিঠে সওয়ার হতে চায়, নিজেদের ফেলে দেওয়া জিনিস আবার মুখে তুলে নিতে চায়- তাদের এই দ্বিচারিতা ধরিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট। গতকাল  চাপে পড়ে সেকেন্ডের মধ্যে  ফরহাদের পল্টি নেওয়া ওদের হীনমন্যতার বড়ো প্রমাণ। 
 
কিন্তু ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে ১৯৪৭ সালের বঙ্গভঙ্গের রাজনীতিতে আমাদের তৎকালীন  জাতীয়তাবাদী নেতারা যে রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছিলেন তা অস্বীকার করে ১৯৪৭ সনে ভারত থেকে বর্ণ হিন্দুদের ধাওয়া খেয়ে পূর্ববঙ্গে পালিয়ে আসা শরনার্থী বুদ্ধিজীবীদের শেখানো ইতিহাস পড়ে  মোদি - শুভেন্দুদের বা বামপন্থীদের ন্যারেটিভ ধারণ করে অতি অসাম্প্রদায়িক হয়ে  রাজনীতি করা আমাদের জাতীয়তাবাদ রাজনীতির  জন্য আত্মঘাতী হবে। এগুলোতে যারা উৎসাহ দেয় তাদের রুট বামপন্থী অথবা লীগের। 
 
আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে যা বুঝি তাই বললাম।
 
লেখক- আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট  [লেখাটি হাবিবুর রহমানের ফেসবুক আইডি থেকে সংগৃহীত]