Image description

বরিশালে আদালতের এজলাসে ভাঙচুর ও বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় তাৎক্ষণিক তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আবদুল্লাহ আল ইউসুফ ও অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. মিল্টন হোসেন।

প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদনটি বরিশাল মহানগর দায়রা জজের কাছে জমা দেন তিনি। 

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির ১২ সদস্যের সনদ বাতিলের আবেদন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সচিব বরাবরে পাঠিয়েছেন বরিশাল মহানগর দায়রা জজ। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছেও আবেদন করা হয়েছে।

আদালতের বিশ্বস্ত একটি সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

আলোচ্য ১২ আইনজীবীর সবাই বিএনপি নেতা এবং এদের মধ্যে ৪ জন পিপি, ৩ জন অতিরিক্ত পিপি এবং ৩ জন সহকারী পিপি। সাবেক ২ এমপিসহ আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের জামিন দেওয়া নিয়ে তারা আদালত বর্জনের পাশাপাশি এজলাসে ঢুকে হট্টগোল করেন।

এদিকে বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে ভাঙচুর ও বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় ৯ আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট বিভাগ। 

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ রুল জারি করেন। রুলে আগামী ১০ দিনের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান। 

রুলপ্রাপ্ত আইনজীবীরা হলেন- বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন, সাধারণ সম্পাদক মীর্জা রিয়াজুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, নাজিমুদ্দিন পান্না, মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আব্দুল মালেক, সাঈদ ও হাফিজ উদ্দিন বাবলু। তারা সবাই পিপি অতিরিক্ত পিপি, সহকারী পিপি এবং বিএনপি নেতা।

এর আগে একই ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির ১২ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে জেলহাজতে আছেন বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকন।