জাতীয় সংসদের পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তৃণমূলে বইছে ভোটের হাওয়া। বিশেষ করে সিটি করপোরেশনগুলোতে তোড়জোড় চলছে। বিএনপি ও জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ের সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা ভোটের আগাম প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। পিছিয়ে নেই জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপিও। জামায়াতের সঙ্গে জোটগতভাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন আলাদাভাবে করতে চায় দলটি। যদিও ছয় সিটি করপোরেশনে রাজনৈতিক নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ায় ভোটগ্রহণের সময় নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জন চলছে।
এদিকে তৃণমূলে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের জনপ্রিয়তার জানানও দিচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। কেউ কেউ পোস্টার ও বিলবোর্ডে আগাম প্রচারও শুরু করেছেন। যদিও নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন আয়োজন। সরকারের গ্রিন সিগন্যাল পেলে জুনেও ঢাকার দুটিসহ তিন সিটি করপোরেশনে ভোট করার মতো প্রস্তুতি আছে ইসির। এছাড়া বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নির্দলীয় প্রতীকে ভোটের বিধান রেখে সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ আইনে যে সংশোধন আনা হয়েছিল, তা জাতীয় সংসদ অনুমোদন করে কিনা-সেদিকেও নজরে রাখছে ইসি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে হলে এসব নির্বাচনসংশ্লিষ্ট আইন সংসদে অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। তিনি বলেন, আমার জানামতে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে ভোট করার বিধান অধ্যাদেশ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সংসদ অধিবেশন বসার পর এই বিল বা এই অর্ডিন্যান্স যদি রেটিফাই হয়, তাহলে একরকম হবে। আর যদি এটা পরিবর্তন হয় বা আগের অবস্থায় ফিরে যায় তাহলে আরেক রকম হবে। আমরা সংসদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।
সম্প্রতি ঢাকার দুটিসহ ছয় সিটি করপোরেশনে দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ায় ভোটের সম্ভাব্য সময় নিয়ে রাজনৈতিক গুঞ্জন চলছে। কেউ কেউ বলছেন, রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে ধারণা করা হচ্ছে, সবকটি সিটি করপোরেশনে খুব শিগগিরই নির্বাচন হচ্ছে না। অবশ্য মঙ্গলবার বিষয়টি অনেকটা খোলাসা করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি জানিয়েছেন, মেয়াদ অনুযায়ী সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, মেয়াদ যেখানে শেষ হবে, সেখানে আগে সিটি নির্বাচন হবে। আমলাদের চেয়ে রাজনৈতিক প্রশাসকরা ভালোভাবে কাজ করবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভবিষ্যতে দলীয় প্রতীকে সিটি নির্বাচন সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, দলীয় প্রতীকে সিটি নির্বাচন ভবিষ্যতে হবে কিনা, সেটা সংসদে নির্ধারিত হবে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ১১টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে তিনটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়াদ ২০২৫ সালের ২ জুন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়াদ ওই বছরের ১ জুন শেষ হয়। আর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়াদ ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। বাকি সিটি করপোরেশনগুলোর মেয়াদ ২০২৭ থেকে ২০২৮ সালে শেষ হবে। নিয়ম অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনের পরিষদ ভেঙে দেওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট করার কথা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার সিটি করপোরেশনের পরিষদ ভেঙে দিলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় ওই সময়ের মধ্যে নির্বাচন করেনি।
এছাড়া পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের এখনো অপসারণ করা হয়নি। তবে তাদের অনেকেই কারাবন্দি, আবার অনেকে এলাকাছাড়া। এই অবস্থায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো চলছে প্রশাসক দিয়ে। ফলে সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের অন্য প্রতিষ্ঠান যেমন, উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতে কবে ভোট হবে-তা সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
তবে ভোট যখনই হোক না কেন, মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক তোড়জোড় দেখা যাচ্ছে।
রাজশাহী ব্যুরো জানিয়েছে, সংসদ নির্বাচনের পরেই রাজশাহীতে লেগেছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের হাওয়া। রাজশাহীতে রয়েছে একটি সিটি করপোরেশন। এছাড়া রয়েছে নয়টি উপজেলা, ১৪টি পৌরসভা এবং ৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ইতোমধ্যে বাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনুসারী ও সমর্থকরা নেমেছেন অগ্রিম প্রচারণায়।
সারা দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে সরকার ইতোমধ্যে ৬টিতে ‘রাজনৈতিক’ প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনেও স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। প্রশাসক নিয়োগে আলোচনায় রয়েছেন-বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন, সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা, আবুল কালাম আজাদ সুইট এবং সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন।
এদিকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি ও জামায়াত নেতারা। পাশাপাশি রাজশাহীর নয়টি উপজেলায় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপি ও জামায়াত নেতারা। তাছাড়া অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। ইতোমধ্যে প্রার্থীদের সমর্থকরা ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রচারণা শুরু করেছেন। জেলার মোট ১৪টি পৌরসভাতেও একই অবস্থা।
খুলনা ব্যুরো জানিয়েছে, খুলনা সিটি করপোরেশনে (কেসিসি) নগর বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিটি নির্বাচনে তিনি দলীয় প্রার্থী হবেন বলে মনে করছেন দলটির তৃণমূল নেতারা। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ে দলীয় ফোরামে মতামত নিয়েছে। সেখানে আলোচনায় এসেছে মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান এবং মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলমের নাম। যদিও জামায়াতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
তবে দুই দলেই কাউন্সিলর প্রার্থী কারা হচ্ছেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। কেসিসির ৩১টি ওয়ার্ড, থানা ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা কাউন্সিলর নির্বাচন করতে আগ্রহী। ইতোমধ্যে অনেক প্রার্থী কাজ শুরু করেছেন। তারা রমজানের শুরুতে ইফতারসামগ্রী বিতরণ, গরিব-অসহায়দের সহযোগিতা করাসহ নানা কাজের মধ্যে জনপ্রতিনিধি হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। এদিকে জেলার ৯টি উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী, ৬৮টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং দাকোপ ও পাইকগাছার দুটি পৌরসভায় বিএনপির একাধিক প্রার্থীর আগ্রহ দেখা গেছে। কাউন্সিলর প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেনি দলটি।
জানতে চাইলে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন যুগান্তরকে বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো কেন্দ্র থেকে জানায়নি। যে কারণে আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে কিনা-তা বলতে পারছি না। জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পী যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি যেহেতু বড় দল, অনেকেই দলের মনোনয়ন চাইবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে। এখন প্রস্তুতি চলছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের। তবে এখন পর্যন্ত ঢাকা থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। তারপরও আমরা কিছু কিছু কাজ এগিয়ে রাখছি। এদিকে জাতীয় নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতে চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আলোচনা। বিশেষ করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। আদালতের মাধ্যমে চেয়ারে আসীন মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী চাইলে তিনি ২০২৯ সাল পর্যন্ত মেয়র পদে থাকতে পারবেন। তবে যেহেতু ওয়ার্ডে কোনো কাউন্সিলর নেই, জনভোগান্তি চরমে উঠেছে, তাছাড়া ভোটের মাধ্যমে নিজের জনপ্রিয়তা যাচাইয়েরও অভিপ্রায় আছে তার। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলেই তিনি মেয়র পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন। এপ্রিলের শেষদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ দেশের তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন প্রস্তুতি নিতে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। সে অনুযায়ী কিছুদিনের মধ্যেই সিটি করপোরেশনে নির্বাচনের ডামাডোল শুরু হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। নগরীর ৪১ ওয়ার্ডে বিএনপি নেতাদের অনেকেই কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে মাঠে সরব হয়েছেন।
চট্টগ্রামে একটি সিটি করপোরেশন, ১৫টি পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ এবং ১৯০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। বেশির ভাগ পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে এখন প্রশাসক বা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিয়ে রুটিন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পৌরসভাগুলো হচ্ছে মীরসরাই, বারইয়ারহাট, সীতাকুণ্ডু, সন্দ্বীপ, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, কর্ণফুলী ও ফটিকছড়ি।
ফরিদপুর : ফরিদপুরে পৌর মেয়র হিসাবে নির্বাচন করবেন বলে শোনা যাচ্ছে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একেএম কিবরীয়া স্বপন, জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন জুয়েল, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এএফএম কাইয়ুম জঙ্গি ও মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজীর আহম্মেদ তাবরীজের নাম। এছাড়া জেলার ভাঙ্গা, বোয়ালমারী, মধুখালী, নগরকান্দা পৌরসভা নির্বাচনে আগ্রহীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
বরিশাল : দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে বিএনপি দলীয় নেতাদের প্রশাসক পদে নিয়োগ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বরিশালেও সরকার প্রশাসক নিয়োগ দেবে কি না, তা নিয়ে চলছে আলোচনা। এ আলোচনায় প্রশাসক পদের জন্য লবিং-তদবিরে ব্যস্ত বেশ কয়েকজন নেতা। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সাবেক এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতউল্লাহ, এবায়েদুল হক চান, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার, জেলা দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব আবুল কালাম শাহিন এবং মহানগর বিএনপির ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা নাসরিন। প্রশাসক কিংবা নির্বাচন প্রশ্নে তাদের মধ্যেই যে কোনো একজন বিএনপির সমর্থন পাবেন বলে ধারণা সবার।
নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ায় নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন রাজনৈতিক, নাগরিক সংগঠন ও সুশীল সমাজের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নারায়ণগঞ্জ নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর জনপ্রতিনিধি না থাকায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাজকর্মে ব্যাপকভাবে ঢিলেঢালা ভাব চলছে। মানুষ আশা করেছিল নির্বাচনের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনে মেয়র, কাউন্সিলররা বসবেন। কিন্তু সেখানে নির্বাচন না দিয়ে যদি সরকার প্রশাসক দিয়ে সিটি করপোরেশন চালাতে চায়, তাহলে খারাপ একটা প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে।
নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু বলেন, প্রশাসক নিয়োগ হোক, এটা অবশ্যই জন-আকাঙ্ক্ষা না। মানুষের আশা হলো নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে সিটি করপোরেশন হস্তান্তর করা।
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ-সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, ব্যক্তিগতভাবে অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেনকে আমি ভালো জানি। কিন্তু দলীয়ভাবে আমরা মনে করি অনির্বাচিত কাউকে স্থানীয় সরকারের কোনো পদে বসানো উচিত নয়। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মাওলানা মাঈনুদ্দিন আহমেদ বলেন, বিষয়টি সুন্দর হয়নি। একটি নির্বাচনের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের মেয়র হবেন, এটিই সবার প্রত্যাশা। কিন্তু সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
এদিকে নিয়োগ পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমার দলের চেয়ারম্যান যে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি তার সম্মান রক্ষা করার চেষ্টা করব। এটি কোনো ক্ষমতা নয়, এটি দায়িত্ব। প্রথমে আমি দুই মাসের কর্মসূচি গ্রহণ করব। যানজট, হকার সমস্যা, নগরীর রাস্তাঘাট এ সময়ে আমার প্রথম কাজ থাকবে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে দ্রুত নির্বাচন দাবি করে বলেন, সরকার সিটি করপোরেশনের কাজের গতিশীলতা আনতে সাময়িক সময়ের জন্য প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। আমরা সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়র, কাউন্সিলর দেখতে চাই।