বরিশালে আদালতের এজলাসে ভাঙচুর ও বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। সে সঙ্গে কমিটি ঘটনার সঙ্গে অভিযুক্ত একাধিক আইনজীবীর সনদ বাতিলের সুপারিশ করেছে।
ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়ার পর বার কাউন্সিলের সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর আবেদন পাঠান মহানগর দায়রা জজ।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে ভাঙচুর এবং বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় তাৎক্ষণিক তদন্ত কমিটি করেন মহানগর দায়রা জজ।
তারা তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বরিশাল মহানগর দায়রা জজের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পাশাপাশি ঘটনায় সঙ্গে জড়িত একাধিক আইনজীবীর সনদ বাতিল করতে বার কাউন্সিলের সচিব এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর সুপারিশ করেন মহানগর দায়রা জজ।
অপরদিকে বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে ভাঙচুর এবং বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় ৯ আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
বুধবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এ রুল জারি করেন। আদালত অবমাননার ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এসএম সাদিকুর রহমান লিংকন, সম্পাদক মীর্জা রিয়াজুল ইসলাম, জেলা পিপি আবুল কালাম আজাদ, মহানগর পিপি নাজিমুদ্দিন আহম্মেদ পান্না, মহসিন মন্টু, মিজানুর রহমান, আব্দুল মালেক, সাঈদ ও হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বাবলুসহ ৯ আইনজীবীর বিরুদ্ধে কেন যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। একইসঙ্গে তাদের আগামী ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে বরিশালের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে ভাঙচুর এবং বিচারকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির নামধারী ১২ সদস্যসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
মামলায় অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাস ভাঙচুর, সরকারি নথি ও মালামাল বিনষ্ট করা, বিচারককে ভয়ভীতি প্রদর্শন, শক্তির মহড়া ও দাপট প্রদর্শন, ত্রাস সৃষ্টি, অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে বিচার প্রার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বিচার কাজে বাধা এবং এজলাস থেকে নেমে যেতে বাধ্য করা, সরকারি কর্মচারীদের মারধর করার অভিযোগ আনা হয়।
পরে সাদিকুর রহমান লিংকনকে বুধবার গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এরপর জেলা আইনজীবী সভা জরুরি সভা ডেকে বৃহস্পতিবার আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে বৃহস্পতিবার আইনজীবীরা আদালত বর্জন করলে ভোগান্তিতে পড়েন বিচার প্রার্থীরা। যদিও আদালতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্যান্য দিনের মতো বৃহস্পতিবারও আদালতের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলেছে।