Image description
 

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর কোথায় আছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এ বিষয়ে অনেকেই জানার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। জানা গেছে, তিনি কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটাচ্ছেন যমুনায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর তিনি এখনও সেখানেই অবস্থান করছেন।

 

জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী ড. ইউনূসের আরও তিন মাস যমুনায় বসবাসের সুযোগ থাকলেও তিনি এটি ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে এরই মধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এরপরই গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার যমুনা পরিদর্শন করেছে।

 

ইউনূসের ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, যমুনায় তিনি পরিবারকে সময় দিচ্ছেন এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। মাস খানেক বা ঈদের পর তিনি গুলশানের নিজ বাসভবনে ফিরতে পারেন, তবে এখনও দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি।

 

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথের পর থেকেই তিনি যমুনায় বসবাস করছেন।

ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ এক সহযোগী জানান, ইউনূস সেন্টারে ফেরার প্রস্তুতি হিসেবে তিনি নথিপত্র ও সাংগঠনিক কাজ করছেন। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে অসুস্থ স্ত্রীকে সময় দিচ্ছেন।

 

তিনি আরও বলেন, মূলত ইউনূস সেন্টারে ফেরার কাজ ও নথিপত্র গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ ছাড়াও কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন তিনি। তরুণদের জন্য নতুন কিছু উদ্যোগ নিয়ে ভাবছেন, তবে এখনো কিছুই চূড়ান্ত হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ড. ইউনূসের দীর্ঘদিনের ‘থ্রি জিরো’ ভিশন বা শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণের ধারণার ভিত্তিতেই নতুন উদ্যোগগুলো নেওয়া হতে পারে, তবে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি ঠিক হয়নি।

বিদেশ থেকেও সফরের জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে তাকে সহায়তা করছেন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) সাবেক প্রধান সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ। কোথায় তিনি সশরীরে যাবেন আর কোথায় ভার্চুয়ালি বক্তৃতা দেবেন-সে ব্যাপারেও কাজ করছেন তিনি।

যমুনায় ড. ইউনূসের আগের মতো ব্যস্ততা না থাকলেও তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠে কম্পাউন্ডের ভেতরেই কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করেন প্রতিদিন। নাশতার পর সকাল ১০টার দিকে কাজ শুরু করেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, যারা তার সঙ্গে দেখা করতে চান তাদের যেন সুযোগ দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট একজন বলেন, তিনি আমাদের স্পষ্টভাবে বলেছেন, যারাই দেখা করতে চায় তাদের যেন সুযোগ দেওয়া হয়। আগে রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার কারণে অনেকের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি, এখন তিনি সবার কথা শুনতে চান। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তার সঙ্গে দেখা করতে আসছেন। কেউ অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা শুনতে চান, কেউ তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চান, আবার কেউ পেশাগত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

আগামী মাসে পাঁচ দিনের সফরে জাপানে যাওয়ার কথা রয়েছে ড. ইউনূসের। সফরের বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তার এক সহযোগী।

সবকিছুর শেষে ড. ইউনূসের মনোযোগ এখন পরিবারের দিকে। অফিসের কাজ শেষে তিনি অসুস্থ স্ত্রীর পাশেই থাকছেন এবং বিকেল ৫টার দিকে তিনি আরেক দফা হাঁটাহাঁটি করেন। সন্ধ্যা কাটছে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে। এ ছাড়া মেয়ের দুই বিড়াল ‘মিনু’ ও ‘কায়রো’র সঙ্গেও সময় কাটে তার।

জানা গেছে, এরই মধ্যে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। তিনি তার সরকারের মেয়াদকালেই পাসপোর্টটি ছেড়েছেন। এক সপ্তাহ আগে ক্ষমতায় থাকাকালীন পাসপোর্টটি হস্তান্তর করেন তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। প্রায় দেড় বছর দেশ শাসনের পরে গত ১২ ফেব্রুয়ারি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন ড. ইউনূস।