Image description

সাভারের আশুলিয়ায় অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা সদস্যের বসতবাড়িতে দফায় দফায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা মো. আতিকুর রহমানকে (৩৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে বুধবার রাতে আশুলিয়া থানার দক্ষিণ গাজীরচট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার আতিকুর ধামসোনা ইউনিয়নের দক্ষিণ গাজীরচট শের আলী মার্কেট এলাকার বাসিন্দা হাসমত আলীর ছেলে।

তিনি ধামসোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক।

 

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মো. ফজলুল হকের দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সালে ফজলুল হক দক্ষিণ গাজীরচট এলাকায় জমি ক্রয় করে বাড়ি নির্মাণের পর থেকে পরিবারসহ সেখানে বসবাস করে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে আতিকুর রহমান ও তার সহযোগীরা ফজলুল হকের জমি ও বাড়ি দখলের উদ্দেশে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের গত ৩০ জানুয়ারি সকালে আতিকুর রহমান ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওই সেনা সদস্যের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালায়।

তাদের মারধরে সেনা সদস্য ফজলুল হকসহ তার স্ত্রী, মেয়ে ও পুত্রবধূ আহত হন।

 

একপর্যায়ে হামলাকারীরা বাড়ির চারপাশে স্থাপিত চারটি সিসিটিভি ক্যামেরা, দোকানের সামনে থাকা চারটি বৈদ্যুতিক মিটার এবং একটি সাবমার্সিবল মোটর ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে আবারও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করা হয়।

এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আতিকুর রহমানসহ কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক তথ্য পায় পুলিশ।

পরে বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে আতিকুরকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা সদস্যের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’