Image description
 

সদ্য সাবেক প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, গত ১৮ মাসে আমি একদিনের জন্যও ছুটি নেইনি। কোনো কোনো দিন সকাল ৬টায় শুরু করে রাত ২টা পর্যন্ত কাজ করেছি। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

শফিকুল আলম জানান, ‘আমি কখনও ক্ষমতার জন্য লালায়িত হইনি। স্বাচ্ছন্দ্যের জীবনকে আমি মূল্য দেই, কিন্তু অর্থের পেছনে ছোটা কখনও আমার প্রেরণা ছিল না। অধ্যাপক ইউনূস যখন আমাকে তাঁর প্রেস সচিবের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেন, তখন আমার একমাত্র লক্ষ্য ছিল কাজটি ভালোভাবে করা বরং ভালো থেকেও ভালো করা। পরিপূর্ণতার জন্য চেষ্টা করা। এই যাত্রাটিকে অর্থবহ করে তোলা।’

গত আঠারো মাসে আমি একদিনের জন্যও ছুটি নেইনি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো দিন সকাল ৬টায় শুরু হয়ে রাত ২টা পর্যন্ত কাজ করেছি। অধ্যাপক ইউনূস নিজেও খুব কম বিশ্রাম নেন, তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা সবার কাছ থেকেই একই রকম নিষ্ঠা প্রত্যাশা করেন। এমন রাত গেছে যখন রাত ২টায় বার্তা এসেছে। আজ একটি এসেছে ভোর ৪টা ৩৮ মিনিটে।’

সাবেক প্রেস সচিব বলেন, ‘আমি কি আমার দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করতে পেরেছি? আপনারাই তার বিচারক। আমি শুধু বলতে পারি, আমি আমার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমি সৎ ছিলাম। আমি কারো ক্ষতি করিনি। যদি কিছু হয়ে থাকে, তবে নিজের পরিবারকেই ঝুঁকির মুখে ফেলেছি। বাংলাদেশ, জুলাই বিপ্লব এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে লক্ষ্য করে বিভ্রান্তিকর তথ্য যখন সামাজিক ও মূলধারার গণমাধ্যমে প্লাবিত হচ্ছিল, তখন আমার কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠেছিল। স্মার্টফোনের পর্দা থেকে সরে আসার সুযোগ খুব কমই ছিল। পারিবারিক জীবনে তার চাপ ছিল বাস্তব। আমি মিথ্যার স্রোতের মুখোমুখি হওয়ার চেষ্টা করেছি। সেই প্রক্রিয়ায় আমি বন্ধু হারিয়েছি। শুভাকাঙ্ক্ষী হারিয়েছি।’

এই আঠারো মাসের দিকে ফিরে তাকিয়ে আমি গর্ব অনুভব করি জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, ‘এক অসাধারণ মানুষের সঙ্গে কাজ করার গর্ব, একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক, দরিদ্রের অকৃত্রিম বন্ধু এবং সুশাসনের প্রবক্তা। তিনি আমাকে দেশ-বিদেশে অনুষ্ঠিত প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত থাকার সুযোগ দিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। কাছ থেকে দেখেছি একজন নোবেলজয়ী কীভাবে কাজ করেন, কীভাবে বিশ্বের অষ্টম বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশের নেতা ক্ষমতার করিডোরে পথচলা করেন।’

তিনি বলেন, ‘প্রায় ৫৫০ দিন তাঁর পাশে থেকে একটিও নিরস মুহূর্ত ছিল না। এমন সময়ও এসেছে যখন মনে হয়েছে আমরা বুঝি বিপর্যয়ের দিকে এগোচ্ছি। এমন মুহূর্তও এসেছে যখন তাঁর নেতৃত্বের যোগ্যতা নিয়ে নিজেদের অযোগ্য মনে হয়েছে। তবু আমার বস ছিলেন শান্ত, বরফশীতল জলের নিচে ইস্পাতের পাতের মতো দৃঢ়। তিনি সবসময়ই নিশ্চিত ছিলেন যে আমরা জয়ী হব। তিনি কখনও আশা হারাননি। এবং শেষ পর্যন্ত, তিনি তাঁর নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করেছেন। একটি উৎসবমুখর নির্বাচন ছিল তাঁর চূড়ান্ত লক্ষ্য, এবং তিনি তা সৌন্দর্যের সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন।’

শফিকুল আলম আরও বলেন, ‘আঠারো মাস পর আজ শুধু এটুকুই বলতে পারি; আমি এই মানুষটিকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করতে শিখেছি। আর এই দেশকে আগের চেয়ে আরও বেশি ভালোবাসতে শিখেছি। আগামীকাল একটি নতুন দিন। আমি আবারও এক নতুন যাত্রায় পা রাখছি পরিপূর্ণতার সন্ধানে ‘