যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় মানবিক ত্রাণ ও সাহায্য সামগ্রী বিতরণে ক্রমাগত বাধা সৃষ্টি করছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। বৈশ্বিক সংস্থাটির মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিসের (ওসিএইচআর) তথ্যমতে, সমন্বিত ত্রাণ মিশনের প্রায় অর্ধেকই ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আটকে দিচ্ছে বা বাধা দিচ্ছে, যার ফলে উপত্যকায় খাদ্য সংকট ও মানবিক পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে যাচ্ছে।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক সতর্ক করে বলেন, হচ্ছে ইসরায়েলি বাধার মুখে ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশে দীর্ঘ বিলম্ব, প্রশাসনিক জটিলতা, এবং কিছু ক্ষেত্রে সাহায্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করার কারণে ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গত ৪ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কেরেম শালোম ক্রসিং হয়ে মিশর থেকে আগত ত্রাণের ৬০ শতাংশের এরও কম পণ্য পরিবহন খালাস করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত ৬ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সমন্বিত প্রায় ৫০টি ত্রাণের চালান আটকে দেয় ইসরায়েল। এই বাধার কারণে গাজায় ভয়াবহ খাদ্যসংকট ও ক্ষুধার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও কমছে না।
ডুজারিক বলেন, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য ত্রাণ সংস্থা বারবার ইসরায়েলের প্রতি মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্নে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে এবং এবিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত ১০ অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যস্ততায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ৬০০টি ত্রাণের ট্রাক গাজায় প্রবেশের কথা ছিল। তবে এই চুক্তি লঙ্ঘন করেই ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে দখলদার ইসরায়েল।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজায় দুর্ভিক্ষপীড়িত এলাকাগুলোতে ত্রাণ পৌঁছানো ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। বর্তমানে প্রায় ৪৯ শতাংশ মানুষ দিনে ছয় লিটারেরও কম পানীয় জল পাচ্ছেন যা জরুরি মানদণ্ডের অনেক নিচে।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে তারা গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৫৬০ টন খাদ্যসামগ্রী গাজায় পাঠাতে পেরেছে, যা চরম অপুষ্টি ও দুর্ভিক্ষ ঠেকাতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর থেকে চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী গোলাবর্ষণ ও গুলিবর্ষণের মাধ্যমে শত শত লঙ্ঘন করেছে। এতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬০৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ হাজার ৬১৮ জন আহত হয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু