Image description

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য যত বেশি সম্ভব সহযোগী সব ফোর্সকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

 

তিনি বলেন, সব নির্বাচনে বিএনসিসি-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা সহযোগী ফোর্স হিসেবে কাজ করে। ইসি বলেছে, আরপিওতে বিধিবদ্ধ কিছু বিষয় আছে। তারপরও চূড়ান্তভাবে তারা না করেননি। এ বিষয়ে কীভাবে সমন্বয় করা যায়, সে ব্যাপারে তারা ভাববেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

সোমবার বিকেলে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের মোবাইল বহনে নিষেধাজ্ঞা-সংবলিত ইসির প্রজ্ঞাপনে জাতির মধ্যে সৃষ্ট উদ্বেগ নিরসন ও প্রজ্ঞাপন বাতিলসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনা করতে তারা সেখানে যান। পরে প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এসব কথা বলেন। এ সময় এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও বক্তব্য রাখেন।

অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছি। খুলনার ডিআইজি, নাটোরের রিটার্নিং অফিসার, শরীয়তপুরের এসপিসহ আরো কয়েকজনের ব্যাপারে আমরা বলেছি। আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা এ সমস্ত কর্মকর্তা কখনো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য অনুকূল নয়। তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া, প্রয়োজনে প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় এসব এলাকাসহ আরো কয়েকটি এলাকায় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, আমরা রোববার পটুয়াখালীর বাউফলের ওসির কথা বলেছিলাম। তার চরম বাড়াবাড়ি ছিল- তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আমরা ঢাকা-১৫ আসনসহ আরো গুরুত্বপূর্ণ আসনে শীর্ষ নেতারা নির্বাচন করছেন- সে সমস্ত আসনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া, নির্বাচন কমিশনে যারা আছেন তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া ও তত্ত্বাবধান করা এবং যে সমস্ত আসনে বড় ধরনের কিছু হতে পারে এমন আশঙ্কা রয়েছে সেখানে বিশেষ নজরদারি করতে বলেছি। সামগ্রিকভাবে আমরা ইসিকে বলেছি- এমন কোনো পরিস্থিতির যেন উদ্ভব না হয়, যাতে আমাদের বারবার আসতে না হয়।

জুবায়ের বলেন, আমরা মনে করি নির্বাচন কমিশন তাদের সক্ষমতার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করবেন। আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা বিষয়ে তারা কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। আমরা আশা করি এমন কোনো চিঠি বা সার্কুলার ইসি যেন না দেয়, যেটি নিয়ে আমাদের ও দেশবাসীর উদ্বেগ তৈরি হয়।

তিনি আরো বলেন, আমরা বলেছি- এবারের নির্বাচন যেহেতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দুটি নির্বাচন- গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন একসঙ্গে হচ্ছে, জনগণের ভোট দিতে বেশি সময় লাগবে। গত তিনটি নির্বাচনে ভোট না দিতে পারার কারণে জনগণের মাঝে আবেগ, আগ্রহ ও উৎসাহ বেশি থাকবে। এজন্য যত বেশি সম্ভব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য সহযোগী সমস্ত ফোর্সকে দেওয়া উচিত।

অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ব্যবহার করা যাবে না। শুধুমাত্র সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে যারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, শুধুমাত্র তারাই মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন- এমন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে মনে হয় সাংবাদিকরা মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন না এবং রাজনৈতিক দল তো নেইই। এই খবর বের হওয়ার পর সবার মাঝে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। আমরা যখন আশা করছি নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে হবে, এরপর আমরা ইসির সঙ্গে বৈঠক করেছি।

তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলে আসছেন এবারের নির্বাচন সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে হবে। সেখানে মোবাইল নিয়ে এ ধরনের একটি ঘোষণা সবাইকে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে এসে ইসির সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, ইতোমধ্যে এটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তারা বলেছেন, যেকোনো সময় এ বিষয়ে চিঠির মাধ্যমে আমাদের জানানো হবে। মোবাইল নিয়ে একজন ভোটার যেতে পারবেন, তবে ভিতরে ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নির্দেশনা আছে- তা মানতে হবে।

জুবায়ের বলেন, আমরা ইসিকে বলেছি- এই বিষয়টিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট হওয়া উচিত। কারণ দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন সময় নির্বাচন কমিশন বলেন, কিন্তু সেখানকার কর্মকর্তারা বিভিন্ন রকম বক্তব্য ও ব্যাখ্যা দেন। এ ধরনের ভিন্ন ব্যাখ্যার কারণে সেখানে জটিলতা তৈরি হয়। আমরা চাই না নির্বাচনের দিন কোনো অনাকাঙ্খিত, অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটুক।

অ্যাডভোকেট জুবায়েরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব, শিক্ষা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আলতাফ হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, এলডিপির নেতা প্রিন্সিপাল মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির নেতা ইঞ্জিনিয়ার শহীদুল আলম ভূইয়া, লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার সিরাজুল ইসলাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) নেতা নজরুল ইসলাম বাবু।

আমার দেশ