Image description

বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে দেয়া ভাষণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ দলের অঙ্গীকার, রাষ্ট্রগঠনে ও সংস্কারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চিন্তা তুলে ধরেন এবং ইশতেহারের মৌলিক অংশসহ বিশেষ কর্মসূচি তুলে ধরেন।

রোববার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যম বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারে একযোগে প্রচারিত ভাষণে চরমোনাই পীর রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রচলিত মূলনীতির বদলে নুতন মূলনীতি প্রস্তাব করে বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই ভূখণ্ডের মানুষের হাজার বছরের চর্চিত বিশ্বাস ও জীবনাচারের নীতি ইসলামকে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি হিসেবে উপস্থাপন করেছে। শরীয়াহ কেবলই একটি আইনের নাম নয়, বরং শরীয়াহ হলো মানুষের বিশ্বাস, জীবনবোধ, সংস্কৃতি, অভ্যাস ও আইনের সমষ্টি। আমরা এই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস হিসেবে, জীবনবোধ হিসেবে এবং সংস্কৃতিতে, অভ্যাসে ইসলামকে ধারণ করি। এখন যদি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ইসলামকে বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলেই বাংলাদেশ তার প্রত্যাশিত সমৃদ্ধি ও লক্ষ্য খুঁজে পাবে; ইনশাআল্লাহ।

রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের মৌলিক নীতি তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় ইসলামের মৌলিক নীতিমালার মধ্যে রয়েছে আদালত, ইনসাফ, নাগরিকের স্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতা, দায়বদ্ধতা, সামাজিক নিরাপত্তা, আইনের শাসন এবং সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় আচার পালনের অধিকার ও সমান সন্মান-মর্যাদা প্রদান করা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে এই মৌলিক নীতিমালার পূর্ণ প্রতিপালন করবে।

একজন পীর হিসেবে মুফতি রেজাউল করীম তার বক্তব্যে ভোট সম্পর্কিত ইসলামের নীতি তুলে ধরে জাতিকে সতর্ক করে বলেন, আপনি যদি ভোটের মাধ্যমে কোনো ভালো নীতি ও ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেন, তাহলে সেই ভালো নীতি ও ব্যক্তির কৃত ভালো কাজের নেকি আপনি পাবেন। আর যদি আপনি কোনো খারাপ নীতি ও ব্যক্তির জন্য সুপারিশ করেন, তাহলে সেই খারাপ নীতি ও ব্যক্তির করা অপরাধের পাপের ভাগ আপনার আমলনামাতেও যুক্ত হবে। কোনো দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও টাকা পাচার না করেও কেবল ভুল জায়গায় ভোট দেয়ার কারণে আপনার আমলনামায় দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের পাপ যুক্ত হতে পারে। তাই ভোট প্রদান কেবল ইহকালীন বিষয় নয়, বরং একইসাথে একটি পরকালীন বিষয়ও বটে। তাই ভোট প্রদানে সতর্ক থাকতে হবে।

ইশতেহার সম্পর্কে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম জানান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইশতেহার মূলত ৫টি ভাগে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রথমভাগে রয়েছে রাষ্ট্র গঠনে নীতিগত অবস্থান। সেখানে রাষ্ট্র পরিচালনার সকল ক্ষেত্রে ইসলামের মৌলিক নীতিমালার পরিপালন, ক্ষমতার চর্চা ও হস্তান্তরে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির অনুসরণ, সকল ধর্ম ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির অধিকার-সম্মানর রক্ষায় প্রতিশ্রুতি, পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগীতামূলক বৈদেশিক সম্পর্ক, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, বৈষম্যবিরোধিতা ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতির মূলোৎপাটন ও নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়।

পরের ভাগে রাষ্ট্র সংস্কারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চিন্তা তুলে ধরেন চরমোনাই পীর। সেখানে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতি দায়বদ্ধতা, পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন, ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা, সেবাভিত্তিক দক্ষ ও সৎ জনপ্রশাসন গড়ে তোলা, রাজস্ব পরিধির সম্প্রসারণ, স্বনির্ভর শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক ডিফেন্স সিস্টেম গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

ভাষণের শেষাংশে পীর সাহেব চরমোনাই তারুণ্যকে তাদের প্রথম ভোট ইসলামের পক্ষে ও পরিবর্তনের পক্ষে দেয়ার আহ্বান জানান। প্রশাসনে কর্তব্যরতদের সকল ধরনের ভয়-প্রলোভনের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও জনতার স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানান।