বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, শত জুলুম-নিপীড়ন ও নির্যাতন চালিয়েও ছাত্রশিবিরের অগ্রযাত্রাকে থামানো যায়নি। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ছাত্রশিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
শিবির সভাপতি সাদ্দাম বলেন, ‘১৯৭৭ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ছাত্রশিবিরের যাত্রা শুরু হয়। শত জুলুম, প্রপাগান্ডা, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়েও ছাত্রশিবিরের অগ্রযাত্রা থামানো যায়নি। তিনি উল্লেখ করেন, গুম কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী ফ্যাসিবাদী আমলে একক সংগঠন হিসেবে ৩১ শতাংশ গুমের শিকার হয়েছে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।’
তিনি বলেন, ‘বামপন্থীদের লাল সন্ত্রাস, মিডিয়া সন্ত্রাস, মিথ্যাচার ও প্রাতিষ্ঠানিক নিপীড়নের মুখেও ছাত্রশিবির এগিয়ে চলেছে। আজ বাংলাদেশের শিক্ষার্থীসমাজ তাদের প্রতিনিধি হিসেবে ছাত্রশিবিরকেই বেছে নিয়েছে। সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তুলতে ছাত্রশিবির দৃঢ় প্রতিজ্ঞা।’
ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, ‘ছাত্রশিবিরের আজকের অবস্থান শত-সহস্র ভাইয়ের শাহাদাৎ, ত্যাগ ও দাওয়াতী কাজের ফসল। ফ্যাসিবাদী আমলে ছাত্রশিবিরের ওপর চরম নির্যাতন চললেও সংগঠনটি কখনোই দাওয়াতী কার্যক্রম, প্রশিক্ষণমূলক প্রোগ্রাম কিংবা মৌলিক সাংগঠনিক কাজ বন্ধ রাখেনি।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আমলের বিরূপ রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে কখনো হলে থাকার সুযোগ হয়নি। ক্যাম্পাস জীবনের অন্যতম স্বপ্ন ছিল ক্যাম্পাস ও শাহবাগে ‘নারায়ে তাকবীর’ স্লোগান দেওয়া। ২৪-এর নির্বাচনের পর কিছুটা হতাশ হয়ে পড়লেও আল্লাহ তায়ালা যেভাবে দেশকে আবার স্বাধীনতার পথে ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং পাঁচটি ছাত্র সংসদে ভূমিধস বিজয় দান করেছেন—তা ভাবলেই আমি অশেষ শুকরিয়া আদায় করি এবং আবেগাপ্লুত হয়ে পরি।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাবি শিবির সভাপতি মহিউদ্দিন খান বলেন, ‘ছাত্রশিবির বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের জন্য এক অনন্য নিয়ামত। সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে সুসময় পার করছে ছাত্রশিবির; তবে আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি। আমাদের চূড়ান্ত সফলতা হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সকলের আরাধ্য জান্নাত। ইনসাফভিত্তিক, আইনের শাসনসম্পন্ন ও মানবিক মর্যাদার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।’