Image description

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগদানের পরপরই বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী সভায় দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে নারীসহ পাঁচজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদি ইউনিয়নের বাবলাতলা গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এতে এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন গ্রামের ইস্রাফিল মোল্যা এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন ওয়াদুদ মোল্যা, শাহাবুদ্দিন মোল্যা ও চান মিয়া।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইস্রাফিল মোল্যা ও ওয়াদুদ মোল্যা গ্রুপের নেতারা দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী ঘারুয়া ইউনিয়নের গঙ্গাধরদি গ্রামে ফরিদপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুলের নির্বাচনী সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে তারা বিএনপিতে যোগদান করেন। ওই সভায় প্রার্থীর উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের নেতারাই বক্তব্য দেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সভায় ইস্রাফিল মোল্যা তুলনামূলক দীর্ঘ সময় ধরে বক্তব্য দিলে ওয়াদুদ মোল্যার সমর্থক শহিদুল ইসলাম শান্ত নামে এক যুবক এতে বাধা দেন। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। যদিও তখনই বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

এর জেরে বুধবার দুপুরে ইস্রাফিল মোল্যার ছোট ভাই জাকারিয়া মোল্যার ওপর প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।

হামলার পরপরই উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া যায়।

 

আহতদের মধ্যে জাকারিয়া মোল্যা (৩৭), জাহিদ মোল্যা (৩৮), লাভলী বেগমসহ (৪৫) আরও কয়েকজনকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে, তবে সবাই আশঙ্কামুক্ত।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাকারিয়া মোল্যা সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা আগে থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতাম।

গতকাল ওরা বিএনপিতে যোগ দিয়েছে। সভায় আমার ভাই বক্তব্য দিলে পেছন থেকে কটাক্ষ করা হয়। আজ আমাকে একা পেয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছে এবং আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে।

 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম বলেন, গতকাল একটি নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

এ বিষয়ে অপর পক্ষের নেতৃত্বদানকারী ওয়াদুদ মোল্যা গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।