সব শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে নীলফামারীতে নির্মাণ কাজ শুরু হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতালের ১ হাজার শয্যার ১০ তলা ভবন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আনুষ্ঠানকিভাবে এই হাসপাতাল নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। ২০২৯ সালের মার্চ মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার সময় ধরা হয়েছে, যা একনেকের সভায় প্রস্তাবনা পাস ও বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ খবরে উচ্ছ্বসিত এলাকার মানুষ।
দৈনিক স্বাস্থ্যসেবায় যা থাকছে
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতালটি চালু হলে দৈনিক ৬ হাজার থেকে ৯ হাজার ৫০০ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। ইনডোরে ভর্তি রোগীর সংখ্যা হতে পারে ৮০০ থেকে ১০০০। বহির্বিভাগে দৈনিক রোগীরা সেবা নিবেন ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩৫০ জন। হাসপাতালটিতে এক থেকে দেড় হাজার চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারী নিয়োগ পাবেন। বহির্বিভাগের চিকিৎসক দেখানোর ফি হবে ৫০ থেকে ১০০ টাকা। বহির্বিভাগে বিশেষজ্ঞ ফি হবে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা। জরুরি বিভাগের ফি হবে ১০০ থেকে ২০০ টাকা। প্রাথমিক রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা। রোগ নিরূপণে বিশেষায়িত পরীক্ষার খরচ হতে পারে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা।
প্রকল্পের যত ব্যয়
চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ২০২৯ সালের মার্চ পর্যন্ত মেয়াদের ২৫ একর জমির ওপর এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৫৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার থেকে ১৭৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং চীনসহ অন্যান্য উৎস থেকে ২ হাজার ২৮০ কোটি ৭ লাখ টাকার ব্যবস্থা করা হবে। যা রোববার একনেকের সভায় প্রকল্পটির প্রস্তাবনা পাস ও বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

কেন নীলফামারীতে
চীনের বিশেষায়িত হাসপাতাল নীলফামারীর সৈয়দপুর রয়েছে আঞ্চলিক বিমানবন্দর। এ বিমানবন্দরে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ও কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ফ্লাইট উঠানামা করে। অপরদিকে রেলপথে সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন ও নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশনের সঙ্গে ঢাকা রাজশাহীসহ সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। এতে করে সারাদেশের মানুষ খুব সহজেই সড়ক, বিমান ও রেলপথে আসতে পারবেন এ হাসপাতালে। এছাড়া সড়ক পথেও রয়ে ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা। ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকেও রোগীরা দ্রুত সময়ে বিশেষায়িত চিকিৎসা পাবেন। এ ছাড়া অন্য জেলায় খাসজমি পাওয়া কঠিন ছিল। এ জেলায় খাসজমি পাওয়া গেছে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি। তাই এখানে আর নতুন করে ভূমি উন্নয়ন করার প্রয়োজন হবে না। এসব কারণে বিশেষায়িত হাসপাতাল করতে নীলফামারীকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক দোলোয়ার হোসেন জাভিস্কো বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নীলফামারীসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর অধিবাসীরা উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন। এতে রাজধানীমুখী রোগীর চাপ কমবে এবং স্বাস্থ্যসেবায় আঞ্চলিক বৈষম্য কমবে। এক হাজার শয্যার আধুনিক হাসপাতালটিতে হৃদরোগ, ক্যানসার, কিডনি ও স্নায়বিক সমস্যার মতো জটিল রোগের চিকিৎসা স্থানীয়ভাবেই দেওয়া সম্ভব হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, হাসপাতাল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে খুব শিগগিরই নীলফামারী আসবেন চীন সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একটি প্রতিনিধি দল। তাদের সহায়তা করতে ইতিমধ্যে সাত সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল গঠন করেছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। যার নেতৃত্বে রয়েছেন পরিকল্পনা বিভাগের একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক।