নির্বাচনি প্রচারণায় দলীয় পরিচয়ে হামলার ঘটনাকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দমন-পীড়নের অশনি সংকেত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, এসব হামলা মূলত কেন্দ্র দখলের একটি ‘প্র্যাকটিস ম্যাচ’, যা অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। ঢাকা-১৮ আসনে এনসিপি মনোনীত প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনার প্রেক্ষাপটে এ প্রতিক্রিয়া জানান হাসনাত আব্দুল্লাহ।
নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আজকের ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে কেন্দ্র দখলের যে প্রবণতা আমরা অতীতে দেখেছি, তারই একটি প্র্যাকটিস ম্যাচ শুরু হয়ে গেছে। বিভিন্ন সময়ে ব্যালটে নির্দিষ্ট প্রতীক না থাকলেও প্রয়োজনে বাড়ি থেকে ছাপিয়ে এনে সিল মারার মতো বক্তব্য আমরা শুনেছি। এই ধরনের আক্রমণাত্মক মানসিকতা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য মারাত্মক হুমকি।
তিনি অভিযোগ করেন, এনসিপির প্রার্থী আদিবের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে বিএনপির দলীয় পরিচয়ে তাদের প্রচার কার্যক্রমেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ ভোটার ও প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীদের পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার মতো উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের প্রচার কার্যক্রম পদ্ধতিগতভাবে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। এসব ঘটনা পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন কতটা অংশগ্রহণমূলক হবে, তা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা নির্বাচন কমিশনের জন্য এখন একটি বড় পরীক্ষা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় এনসিপির নির্বাচন ও প্রশাসন উপকমিটির সেক্রেটারি আইমান রাহাত বলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন আসনে বিএনপি প্রার্থীরা এনসিপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং প্রচার কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছে। কিন্তু প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, আচরণবিধি অনুযায়ী রাত ৮টা পর্যন্ত মাইক ব্যবহার করার কথা থাকলেও একটি দল গভীর রাত পর্যন্ত মাইকে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। কোথাও আচরণবিধির প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না। এতে ভোটারদের মধ্যে এই বার্তা যাচ্ছে যে, দেশে নির্বাচনি আচরণবিধির কোনো গুরুত্ব নেই।
আইমান রাহাত আরও অভিযোগ করেন, কিছু আসনে সরকারি প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে নির্বাচনি সভা করা হচ্ছে, কোথাও নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বড় বিলবোর্ড ও পোস্টার লাগানো হয়েছে। পাশাপাশি অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আবারও রিটার্নিং বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নতুন করে কারচুপির আশঙ্কা তৈরি করছে।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে প্রশাসন যেন কোনো বিশেষ দলের হয়ে কাজ না করে— এ দাবি নির্বাচন কমিশনের কাছে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।