বিএনপির চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৭ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত সরকার অপরিহার্য। জনগণ কী চায় তা একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া অন্য কারো পক্ষে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর মানুষের ভোটাধিকার ছিল না, হয়েছে কেবল ‘ডামি’ নির্বাচন। এবার সময় এসেছে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ভাসানটেকের বিআরবি স্কুল মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি প্রথাগত ভাষণের বাইরে গিয়ে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। কয়েকজন নারী ভোটারকে মঞ্চে ডেকে নিয়ে এলাকার রাস্তাঘাট, অবকাঠামো ও প্রস্তাবিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে তাদের মতামত শোনেন। এলাকাবাসী বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরলে তিনি বলেন, তিনি এই এলাকায় বড় হয়েছেন এবং এলাকাবাসীর সমস্যাগুলো সরাসরি জানতেই এই আয়োজন।
এ সময় তিনি এলাকার সন্তান হিসেবে ঢাকা-১৭ আসনে তাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। তারেক রহমান বলেন, ধানের শীষ প্রতীকে যতবার নির্বাচিত হয়েছে ততবারই দেশের উন্নয়ন হয়েছে। তাই এবার শুধু ঢাকা-১৭ নয়, সারা দেশে ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে হবে।
তারেক রহমান ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, নির্বাচিত হতে পারলে পরিকল্পিতভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। বিশেষ করে দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রকে ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, অন্যান্য পেশার মতো বাংলাদেশেও পেশাদার খেলোয়াড় তৈরির জন্য প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি জানান, খেলাধুলাকে পেশাগতভাবে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জনসভা বিকেল ৩টায় শুরুর কথা থাকলেও দুপুর থেকেই হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ উপচে ভিড় পাশের অলিগলি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
জনসভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ডা. জুবাইদা রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকসহ স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা। সবশেষে তারেক রহমান এলাকার সন্তান হিসেবে ঢাকা-১৭ আসনে তাকে এবং সারা দেশে ধানের শীষের প্রার্থীদের জয়ী করার আহ্বান জানান।