অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেছেন, নির্বাচনের পরে আমি দেশেই থাকব। হাসিনার মতো আমি এমন কাজ করিনি যে আমাকে সেফ এক্সিট নিতে হবে। আমি এ দেশেরই সন্তান, আমি এ দেশেই থাকব। তখন সাংবাদিকতা করব নাকি চাকরি করব, তা পরে দেখা যাবে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকালে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইমামবাড়ি মাজার পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
শফিকুল আলম বলেন, দেশে ৬০টির বেশি মাজারে হামলা হয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় মামলা হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের বাউল সমাজের ভোটাররাও ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন। কোনো আশঙ্কা থাকতে নেই।
গণমাধ্যম সংস্কার নিয়ে প্রেসসচিব বলেন, তথ্য অধিকার আইনের (আরটিআই) কিছু আরো সহজ করা হয়েছে। সূচিপত্র কিভাবে হবে, কিভাবে রিপোর্ট করবেন, আপনি কিভাবে তথ্যের ওপরে আপনার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করবেন। সেসব বিষয়ে একটা অধ্যাদেশ পাস করা হয়েছে। এই সরকার ১৮ মাস ধরে দেশের দায়িত্বে আছে, এই সময়ের মধ্যে সব কিছু তো সম্ভব না। যে বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ছিল সেগুলো নিয়ে এই সরকার কাজ করছে। তবে সব বিষয়ের ওপরই কাজ করার ইচ্ছা এই সরকারের ছিল, কিন্তু সময় স্বল্পতার জন্য সেটি করা সম্ভব হচ্ছে না।
গণভোটে হ্যাঁ ভোটের ব্যাপারে প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ৯ মাস জাতীয় সংস্কার কমিশনের আলোচনা করার পরই এই গণভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গণভোটে গুরুত্ব বুঝেছে বলেই তো এই আলোচনা, আর এর ফসলই হচ্ছে জুলাই সনদ এবং এটাকেই এখন ‘হ্যাঁ’ ভোটের জন্য দেওয়া হয়েছে। সব রাজনৈতিক দল বলছে, তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে, কিন্তু নিজেদের প্রচারণা নিয়ে হয়তো একটু ব্যস্ত। দেশের সব শ্রেণির মানুষের কাছে আমরা বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। সবাই জানবেন যে কেন আমাদেরকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। ‘হ্যাঁ’ দিতে হবে এজন্য যে, দেশে যেন আর কোনো স্বৈরাচার ফিরে না আসে, অপশাসন যেন ফিরে না আসে, আপনার ব্যাংকের টাকা যেন কেউ লুটপাট করতে না পারে।
এ সময় গড়পাড়া ইমামবাড়ির খাদেম ক্রীড়া সাংবাদিক আরিফুর রহমান বাবুসহ ইমাম বাড়ির ব্যক্তিবর্গ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।