Image description

ঢাকায় ইরা‌ন দূতাবাসের সাংস্কৃ‌তিক কাউন্সেলর সাইয়্যেদ রেজা মীর মোহাম্মাদী অভিযোগ করেছেন, ইরান সরকারকে উৎখাতের বড় পরিকল্পনা ছিল আমেরিকা ও ইসরায়েলের। তবে ইরানি জনগণ সেটা রুখে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ঢাকার ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিমকা‌লে এ অভি‌যোগ ক‌রেন তি‌নি।

সাংস্কৃ‌তিক কাউন্সেলর জানান, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জন ছিলেন সরকারের পক্ষে। এদেরকে সরকার থেকে শহীদ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। আর সরকারের বিপক্ষে প্রায় ৬০০ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

 

তিনি বলেন, বিক্ষোভকালে ৭৫০টি ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠান ক্ষতি হয়েছে। ৩৫০টি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়েছে। ৭০০ মার্কেট-প্যালেস ক্ষতি হয়েছে। ৩০৫টি বাস, ৮০০ প্রাইভেট কার, ৬০০ এটিএম বুথ, ২৫০টি বাস স্টেশন, ৮০৯টি মাদ্রাসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রেজা মীর জানান, ইরানে ১ জানুয়ারি থেকে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন। ইরানের মুদ্রার সঙ্গে ডলার ও ইউরোর দামের ব্যবধান বেড়েছিল বলেই তারা বিক্ষোভ করেন। তখন ব্যবসায়ীরা সরকারকে এই সমস্যা সমাধান করতে বলেছিলেন। এটা, স্বাভাবিক। সারা বিশ্বেই এটা হতে পারে। কিন্তু সেই বিক্ষোভে আমেরিকা ও ইসরায়েল ইন্ধন দেয়। সেই বিক্ষোভ তেহরানের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। তখন একটি গ্রুপ লুটপাট চালানো শুরু করে। তারা এমনকি মসজিদেও হামলা চালায়। তবে তাদের বিরুদ্ধে ইরানের সাধারণ লোক ১২ জানুয়ারি পাল্টা বিক্ষোভ করেন। ইরান সরকারের পক্ষে তেহরানে ৩ মিলিয়ন আর পুরো ইরানজুড়ে প্রায় ২৫ মিলিয়ন লোক নেমে আসে। 

রেজা মীর ব‌লেন, প‌শ্চিমা মিডিয়ার খবর দেখলে মনে হবে ইরান সরকারের পতন হয়ে গেছে। তবে বাস্তব অবস্থা ছিল ভিন্ন। ইরানের সরকারের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েল ষড়যন্ত্র করে চলেছে।