বাংলাদেশ টেলিভিশন ( বিটিভি ') বাদ্যযন্ত্রী সুমন রেজা খানের সরকারি নীতিমালা লংঘন করে বিদেশ ভ্রমণ ও সিন্ডিকেট মাধ্যমে নানা অনিয়ম, দূর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতসহ সকল অনিয়ম-দুর্নীতির
সাথে জড়িত বাংলাদেশ টেলিভিশন এই কর্মকর্তা।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ টেলিভিশন বিটিভির মহাপরিচালক সদর দপ্তর বরাবর লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বিটিভির সুমন রেজা খান দুটি পাসপোর্ট, দুটি এনআইডি ও G.O ছাড়াই বিদেশ সফর—রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ভাঙনের ভয়ংকর স্বীকারোক্তি।"নারী শিল্পী হেনস্থা, দুর্নীতির পাহাড় আর সিন্ডিকেট রাজনীতিতে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের গভীর ক্ষয়"
বাংলাদেশ টেলিভিশন ( বিটিভি ') বাদ্যযন্ত্রী সুমন রেজা খানের সরকারি নীতিমালা লংঘন করে ' জিও " ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ ও সিন্ডিকেট মাধ্যমে নানা অনিয়ম, দূর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতসহ সকল অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিচারের দাবি জানিয়ে আবেদন করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয় বাংলাদেশ টেলিভিশনের ঢাকা কেন্দ্রের বাধ্যযন্ত্র সুমন রেজা খান - ( ০১৮১৯৪৯৯২৭৭') সরকারি চাকুরির নীতিমালা লংঘন করে অবৈধভাবে বিটিভিতে নিয়োগ পেয়েছেন। বাধ্যযন্ত্রী হিসেবে ৬ বছরের অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি নিয়োগ পেয়েছেন। তাঁর ' জিও ' ছাড়াই ২০০৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর ভারত ভ্রমণ করেছেন এবং অন্যদিকে ২০০৮ সালে ডিসেম্বর মাসে প্রথম সপ্তাহে তিনি ওমান ভ্রমণ করেছেন ৷
এখানে উল্লেখ্য যে, তিনি ব্যক্তিগত পাসপোর্ট নাম্বার ডব্লিউ -( ০১৭৫২২৬') ব্যবহার করে ওমান ভ্রমণ করেছেন। যেখানে তিনি তার পিতার নাম গোপন করে চাচার নাম নাম মৃত আবদুল আজিজ খান ব্যবহার করছেন ( কপি সংযুক্ত ')। প্রকৃতপক্ষে তার পিতার নাম মৃত মো: আবদুল মজিদ খান ।
এছাড়াও তিনি সরকারি নীতিমালা লংঘন করে সরকারি পাসপোর্ট ব্যবহার না করে বিভিন্ন সময়ে দেশ ভ্রমণ করেছেন। তার এসব ভ্রমণের উদ্দেশ্য ছিল প্রবাসে বাংলাদেশীদের উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাদ্য যন্ত্র বাজানো। যা সম্পুভাবে বেআইনি। কোন অনুমোদন ছাড়া বেসরকারিভাবে আয়োজিত দেশের বাইরে এধরনের অনুষ্ঠানে তার অংশ গ্রহণের অন্যতম উদ্দেশ্যই ছিল অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন। যা সরকারি চাকুরির বিধিমালার সুস্পষ্ট লংঘন।
জানা গেছে সরকারি পাসপোর্ট ছাড়া ও তার অন্য নামে আরো একটি পাসপোর্ট ছিল। বিটিভিতে তিনি আপাদমস্তক একজন দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে জনসম্মুখে প্রকাশ হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে দুদক ও তথ্য মন্ত্রনালয়ে নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত ও করেছে। এসব তদন্তের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে সবধরনের দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। কিন্তু সে নানাভাবে প্রভাব খাঁটিয়ে সবকিছু ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সুতরাং উপরোক্ত প্রেক্ষাপটে জানা যায় যে, সুমন রেজা খানের অবৈধ ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে। এবং তার বিরুদ্ধে সাধারণ শিল্পীরা দীর্ঘ দেড় বছরের ও বেশি সময় ধরে আন্দোলন করে আসছে। এমতাবস্থায় আমরা বাংলাদেশ টেলিভিশন বিটিভির মহাপরিচালক সদর দপ্তর বরাবর এবিষয়ে অনেকবার অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আজ পর্যন্ত সুমন রেজা খানের বিরুদ্ধে সুষ্ঠ তদন্ত ও প্রমাণিত হওয়ার পরেও কেনো তাঁকে আইনানুগ ব্যবস্থা করা হচ্ছে না সেই বিষয়টি নিয়ে আবারও এব্যাপারে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের অভ্যন্তরে সুমন রেজা খান—একটি নাম, যা এখন আর কেবল একজন স্টাফ কিবোর্ড শিল্পীর পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নয়। অনুসন্ধানে উঠে আসা অভিযোগ, স্বীকারোক্তি ও নথিপত্রের আলোকে এই নামটি আজ সিনিয়র গুণী শিল্পী, মিউজিসিয়ান, তরুণী ও নারী শিল্পী-কুশলীসহ সাধারণ কর্মচারীদের কাছে এক ধরনের ‘শীতল সন্ত্রাসের প্রতিচ্ছবি’ হয়ে উঠেছে।
একাধিক অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য বলছে—এই নামটির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে অনিয়ম, প্রশাসনিক শৈথিল্য এবং রাষ্ট্রীয় বিধি লঙ্ঘনের এক ভয়ংকর ধারাবাহিকতা, যা কেবল একজন সরকারি কর্মচারীর ব্যক্তিগত অনৈতিকতা নয়; বরং একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে দুর্নীতির আশ্রয় ও প্রশ্রয়ের কাঠামোকেই নগ্নভাবে উন্মোচিত করে।
‘আমার টেলিভিশন’, ‘আমার পত্রিকা’ ও ‘চ্যানেল ২৪’-এর যৌথ অনুসন্ধানে সম্প্রতি এমন সব নথি ও স্বীকারোক্তি উঠে এসেছে, যা বিটিভির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
যৌথ অনুসন্ধান ও প্রাতিষ্ঠানিক অসহযোগিতা:
দীর্ঘদিন ধরেই আমার টেলিভিশন, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন (তালাশ), চ্যানেল ২৪, দৈনিক ইনকিলাব, যুগান্তর, ইত্তেফাক, জনকণ্ঠ ও কালবেলা–এর অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা বিটিভির ভেতরের দুর্নীতি, অনিয়ম ও শৃঙ্খলাভঙ্গের চিত্র উদ্ঘাটনে কাজ করে যাচ্ছেন।
এই অনুসন্ধানের পথে সাংবাদিকদের বারবার মোকাবিলা করতে হয়েছে- ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতা, দুর্ব্যবহার এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হুমকির। তবুও বিগত ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট সরকারের আশ্রয়ে থাকা দুর্নীতিবাজদের চোখ রাঙানো উপেক্ষা করে প্রকাশিত হয়েছে একের পর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।
একইসঙ্গে “বাংলাদেশ সংস্কৃতি ও শিল্পী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ” এবং “বাংলাদেশ সৃজনশীল শিল্প-সংস্কৃতি পরিষদ”- এই দুটি প্লাটফর্ম নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পাশাপাশি দুদক ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নথি, ভিডিও ও অডিওসহ লিখিত অভিযোগ দাখিল করে আসছে। সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে যেমন এসব অভিযোগের সত্যতা মিলেছে, তেমনি নিজস্ব যাচাইয়েও পাওয়া গেছে শক্ত নথিভিত্তিক প্রমাণ।
অনৈতিকতার ছায়ায় সুমন রেজার চাকরি জীবন:
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৬ সালের বিটিভির নিয়োগ সার্কুলার অনুযায়ী স্টাফ বাদ্যযন্ত্রী শাখার ‘কিবোর্ড আর্টিস্ট’ পদে আবেদন করলেও সুমন রেজা খান নিয়োগ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন এবং নিয়োগের প্রাথমিক শর্ত পূরণে ব্যর্থ হন।
নিয়োগ পরীক্ষার প্রধান ছিলেন দেশের বিশিষ্ট সুরকার শেখ সাদী খান। তার ভাষ্যে, “কিবোর্ড বিষয়ে তার কোনো বাস্তব দক্ষতা বা ন্যূনতম ধারণাও ছিল না, ফলে সে নিয়োগ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়।”
২০০৭ সালে পুনরায় বিশেষ ব্যবস্থায় নেওয়া পরীক্ষাতেও সুমন রেজা খান অকৃতকার্য হন। অথচ পরবর্তীতে মোটা অঙ্কের লেনদেনের মাধ্যমে নিয়োগ নীতিমালা উপেক্ষা করে তিনি চাকরি পান—এমন অভিযোগ উঠে এসেছে। নিয়োগ নীতিমালার প্রথম শর্ত ছিল- সংশ্লিষ্ট পদের বিপরীতে ছয় বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা, যা তার ছিল না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিটিভির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “এই নিয়োগ সম্পূর্ণ অবৈধ। কর্তৃপক্ষ চাইলে এখনো ব্যবস্থা নিতে পারে।”
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিব বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।” ভয়ংকর স্বীকারোক্তি- দুটি পাসপোর্ট, দুটি এনআইডি: এই অনুসন্ধানের সবচেয়ে গুরুতর অধ্যায়—সরকারি ছাড়পত্র (G.O) ছাড়াই একাধিকবার সুমন রেজা খানের বিদেশ গমন।
আমার টেলিভিশনের প্রতিবেদকের কাছে সুমন রেজা খান নিজেই স্বীকার করেছেন, তিনি কোনো G.O না নিয়েই অবৈধ পাসপোর্ট নম্বর W0175226 ব্যবহার করে—
২৩ ডিসেম্বর ২০০৭ ভারত, ডিসেম্বর ২০০৮ ওমান সফর করেন।
এই পাসপোর্টে তিনি পিতার নামের স্থলে চাচার নাম বসিয়ে ‘ভুয়া’ পরিচয়ে বিদেশ ভ্রমণ করেন। পরবর্তীতে আবার ভিন্ন তথ্য দিয়ে নতুন এনআইডি ও পাসপোর্ট গ্রহণ করেন—অর্থাৎ প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করেন দুটি পাসপোর্ট ও দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র।
পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন অধিদপ্তর এবং নির্বাচন কমিশনের যাচাইয়ে এই দুই পাসপোর্ট ও এনআইডির অস্তিত্ব নিশ্চিত হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ এর স্মারক নং- ১১৬/২৫-০৫/ইমিগ্রেশন, তারিখ: ২২/০১/২০০৯ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়—“সুমন রেজা খান ০৫/১২/২০০৮ তারিখ বিজি-০২৩ বিমানযোগে মাসকট (ওমান) গমন করেন এবং ২৯/১২/২০০৮ তারিখে গালফ-২৫০ বিমানযোগে দেশে প্রত্যাবর্তন করেন।”
প্রায় ২৫ দিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও এবং সত্যতা প্রমাণিত হলেও বিটিভি কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি—যা সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক অতিরিক্ত সচিব বলেন, “এ ধরনের অনিয়ম গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বর্তমানে তদন্তাধীন এ বিষয়টি প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”