Image description

বিদ্যুৎ না দিয়েই ৩৫টির বেশি বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি (আইপিপি) ৮ হাজার কোটি টাকা বিল নিয়েছে বলে অভিযোগ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি)। এর মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে আইপিপিগুলোর কাছ থেকে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে আইপিপিগুলো। তারা বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের-বিইআরসির কাছে মামলা করে হেরেছে। এখন আবারও সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে বিইআরসিতে।

কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ গত সপ্তাহে যুগান্তরকে বলেন, সরকারের সঙ্গে কোম্পানিগুলোর চুক্তি (পিপিএ) অনুযায়ী আইপিপিগুলোকে প্রথমে পিডিবির সঙ্গে বসে আলাপ করে বিরোধ মীমাংসা করতে হবে। তারপর বিইআরসিতে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে সেটি করা হয়নি।

বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, আইপিপিগুলো বিদ্যুৎ না দিয়ে অনেক টাকা নিয়ে গেছে। এখন বিইআরসি সরকারের পক্ষে রায় দিলে তাদের কাছ থেকে বিরোধের সব টাকা আদায় করা হবে।

বিদ্যুৎ বিক্রির ৮ মাসের বেশি বিল পিডিবির কাছে পাওনা আছে আইপিপিগুলো। যা ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। বিলের অর্থ না পেয়ে অনেক কোম্পানি নিয়মিত বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন পাওনা পরিশোধ করতে পারছে না বলে অভিযোগ আছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর পিডিবি আইপিপির চুক্তি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে তদন্ত করে। সেখানে দেখা গেছে, বেশিরভাগ বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র সরকারের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ দিতে পারেনি। কিন্তু বিল আদায় করে নিয়েছে। যার পরিমাণ ৮ হাজার কোটি টাকা। একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২২ সালে বিদ্যুৎ না দিলেও আইপিপিগুলোর বিল কাটা যাবে না বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কারণ তখন অর্থাভাবে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিল দিতে পারছিল না সরকার। তাই টাকার জন্য আইপিপিগুলো ফার্নেস অয়েল কিনতে পারেনি অথবা সংকটের কারণে সময়মতো গ্যাস পায়নি।

বিষয়টি নিয়ে পিডিবির সদস্য (অর্থ) অঞ্জনা খান মজলিসের নেতৃত্বে একটি কমিটি হয় গত বছর। কমিটি গত কয়েক বছরের উদ্ঘাটিত তথ্য-উপাত্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে পাঠিয়ে মতামত নেয়। অ্যাটর্নি জেনারেল পিপিএ অনুযায়ী বিদ্যুৎ না দিলে জরিমানা হিসাবে অর্থ আদায় করার পক্ষে অভিমত দেন। এতে আইপিপিগুলো বিদ্যুৎ না দিয়ে ৮ হাজার কোটি টাকা বিল নিয়ে গেছে উল্লেখ করা হয় পিডিবির কমিটির রিপোর্টে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী ইতোমধ্যে চাঁদপুর পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির কাছ থেকে ৭৮ কোটি ১৬ লাখ ১৯ হাজার ৩১৮ টাকা, মানিকগঞ্জ পাওয়ারের কাছ থেকে ১৪৩ কোটি ৩৪ লাখ ২৩ হাজার ২৯৯ টাকা, ওরিয়ন পাওয়ার সোনারগাঁ লিমিটেডের কাছ থেকে ২৪১ কোটি ২০ লাখ ৯৯ হাজার ১৬০ কোটি, ওরিয়ন রূপসা পাওয়ারের ১৯৮ কোটি ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩১৩ টাকা, ডিজিটাল পাওয়ারের কাছ থেকে ২২৩ কোটি ১৯ লাখ ৯৯ হাজার ৮৭৯ টাকা এবং কাঞ্চন পূর্বাচল পাওয়ারের ১১ কোটি ৬০ লাখ ৬৩ হাজার ৯৩২ টাকা আদায় করা হয়েছে।

সরকারি এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৩০টির মতো বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি গত মাসে বিইআরসিতে পৃথক মামলা করে। কয়েক দফায় শুনানির পর ৭ জানুয়ারি সেই মামলাগুলো খারিজ করে দেয় বিইআরসি। জানা গেছে, বিআইআরসির শুনানিতে আইপিপির আইনজীবীরা বলেছেন, পিডিবির ৭-৮ মাসের বিল বাকি। এ অবস্থায় জ্বালানি তেল কিনে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া অসম্ভব। এর জবাবে পিডিবি বলেছে, পিপিএতে বিল পরিশোধের নিয়ম ভিন্ন। বিলের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার সুযোগ নেই।

সবশেষ ১৩ থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত কমপক্ষে ১৫টি কোম্পানি ওই রায়ের বিরুদ্ধে আবার আপিল করেছে বিইআরসিতে। তবে বিইআরসি এ আপিল গ্রহণ করবে কিনা তা এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এর মধ্যে পিডিবি তার পাওনা অর্থ অনেক কোম্পানির বিল থেকে কেটে নিয়ে সমন্বয় করছে বলে জানা গেছে।