গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ি) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজার রহমানকে অজ্ঞান অবস্থায় রংপুরে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ক্যাডেট কলেজের কাছে প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আজিজার রহমান রাস্তার ধারে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজার রহমান বলেন, গাইবান্ধা-৩ আসনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে রিটানিং অফিসার তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন। বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে ঢাকায় গিয়েছিলেন। আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেলে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টায় ঢাকা থেকে পিংকী পরিবহন নামে একটি বাসে গাইবান্ধায় ফেরার জন্য ওঠেন। সিরাজগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে বাসটি থামে, তিনিও অন্যান্য যাত্রীদের মতো বাস থেকে নামেন। এ সময় তার পাশে বসা কয়েকজন যাত্রী তাকে একটি সেদ্ধ ডিম খেতে দেন। এই ডিম খাওয়ার পর তিনি আর কিছু বলতে পারেননি।
শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে ওই বাসের সুপারভাইজার অজ্ঞান অবস্থাতেই বাস থেকে রংপুর নগরীর ক্যাডেট কলেজ সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে মহাসড়কের পাশে ফেলে চলে যায়।
স্থানীয়রা জানায়, পথচারীসহ আশেপাশের লোকজন পাগল অথবা অসুস্থ ভেবে তাকে উদ্ধার করার কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ট্রাফিক পুলিশের একজন কর্মকর্তাকে এলাকাবাসী জানায় এক ভদ্র লোক রাস্তার ধারে পড়ে আছে, তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছে। বিষয়টি তাজহাট থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে পুলিশের সদস্যদের সেবায় তিনি জ্ঞান ফিরে পান।
আজিজার রহমান সাদুল্লাপুর উপজেলার ঘেগারবাজার খোদা বকস গ্রামের রজ্জব উদ্দিন মন্ডলের ছেলে।
আজিজার রহমান বলেন, পিংকী পরিবহন বাসের ড্রাইভার ও সুপারভাইজার আমি মারা গেছি ভেবে অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তার ধারে ফেলে চলে গেছে। তারা চরম অমানবিকতার পরিচয় দিয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে বাসের সুপারভাইজার ও ড্রাইভার জড়িত ছিল বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, কাছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিল— তা দুর্বৃত্তরা নিয়ে গেছে।
তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজার রহমান শারীরিকভাবে খুব অসুস্থ, ঠিক মতো কথাও বলতে পারছিলেন না।
এদিকে খবর পেয়ে সাদুল্লাপুর থেকে আজিজার রহমানের স্বজনরা তাজহাট থানায় আসেন। তার বড় ছেলে আশিকুর রহমান বলেন, বাবাকে রাতে অনেকবার ফোন করলেও পাওয়া যাচ্ছিলো না। পরে একপর্যায়ে ফোনে পাওয়া গেলেও অজ্ঞাত লোকজন কথা বলছিল, তারা টাকা দাবি করছিল। পরে রাত আড়াইটার দিকে বিকাশে ২ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়। তারা বার বার হত্যা করার হুমকি দিচ্ছিলো।
ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তাজহাট থানার ওসি আতউর রহমান বলেন, গাইবান্ধা ৩ আসনের স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী আজিজার রহমানকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এখনও তিনি অসুস্থ। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ নিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেইসঙ্গে তাকে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।