বিশ্ববাজারে লোহার স্ক্র্যাপের (কাঁচামাল) দাম নতুন করে বাড়তে শুরু করায় বাংলাদেশে মাইল্ড স্টিল (এমএস) রডের দাম বাড়তে শুরু করেছে। কাঁচামাল আমদানিতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় রি-রোলিং মিলগুলো দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে, যা আবাসন নির্মাতা ও ঠিকাদারদের মধ্যে নির্মাণ ব্যয় নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
উদ্যোক্তারা জানান, গত এক সপ্তাহে আমদানিকৃত স্ক্র্যাপের দাম টনপ্রতি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ডলার বেড়েছে। এর মাধ্যমে গত এক বছর ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার যে দীর্ঘ প্রবণতা ছিল, তাতে পরিবর্তন এলো। আমদানিতে অতিরিক্ত এই ব্যয় এখন স্থানীয় বাজারেও প্রভাব ফেলছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেশকিছু ছোট ও মাঝারি মিল ইতোমধ্যে রডের দাম টনপ্রতি ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে।
জানা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারদর পর্যালোচনাকারী সংস্থা আর্গাস-এর তথ্য অনুযায়ী, গ্রীষ্মকালীন মন্দার সময় তুরস্কে হেভি মেল্টিং স্টিল (এইচএমএস) ১/২ (৮০:২০) স্ক্র্যাপের দাম টনপ্রতি প্রায় ৩৩৬ ডলারে নেমে এসেছিল। তবে ডিসেম্বরের শুরুতে তা আবার ৩৬০-৩৭০ ডলারের ঘরে পৌঁছেছে। সমুদ্রপথে স্ক্র্যাপ আমদানিতে তুরস্ক বিশ্বের বৃহত্তম দেশ হওয়ায় তারাই মূলত বিশ্ববাজারের দামের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, তুরস্কের নতুন করে কেনাকাটা শুরু করা এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় শীতকালীন সরবরাহ বিঘিœত হওয়ার কারণে বাজারে স্ক্র্যাপের সংকট তৈরি হয়েছে। এতে দাম বেড়ে গেছে। করোনাকালে বিশ্বব্যাপী স্ক্র্যাপের সংকটের সময় বাংলাদেশে প্রিমিয়াম গ্রেডের রডের দাম টনপ্রতি সর্বোচ্চ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।