Image description

আওয়ামী লীগকে ‘দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় রাখতে’ সবশেষ তিন সংসদ নির্বাচন আয়োজনের ‘অভিনব মহাপরিকল্পনা’ করা হয়, যা বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে বলে এ বিষয়ক কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তিন নির্বাচনের ‘দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ তদন্তে গঠিত ‘জাতীয় নির্বাচন তদন্ত কমিশন’ সোমবার এ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে হস্তান্তর করেছে।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে কমিশনের প্রধান হাই কোর্টের সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন এ প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন বলে সংবাদ বিফ্রিংয়ে তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

 

কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে’ এ বন্দোবস্ত করা হয়েছিল।

এতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের ২০০৯ সালের মেয়াদ শেষে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ এর তিন নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থাকে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে মূলত প্রশাসনের হাতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময়ে কমিশনের পরিবর্তে ‘প্রশাসনই হয়ে ওঠে নির্বাচন পরিচালনার মূল শক্তি’।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনটি নির্বাচনের ‘নির্বাচনি অনিয়মে’ কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারি যুক্ত থাকায় এবং তদন্ত কমিশনের জন্য বরাদ্দ করা সময় অপ্রতুল হওয়ায় সুনির্দিষ্টভাবে তাদের নাম এবং কার কী ভূমিকা ছিল তা বের করা সম্ভব হয়নি।

 

কমিশনের সদস্য শামীম আল মামুন তিনটি নির্বাচনের বৈশিষ্ট, তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে বলেন, ৩০০ পৃষ্ঠার বেশি আকারের এ প্রতিবেদন সরকার প্রকাশ করবে।

এদিন প্রতিবেদনের কিছু অংশ সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করা হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে আয়োজিত আলোচিত এ তিন নির্বাচনের মধ্যে বিএনপি ও তার মিত্ররা ২০১৪ ও ১০২৪ সালের ভোট বর্জন করে। এর মধ্যে ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অর্ধেকের বেশি আসনে জিতে যায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা।

সবশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে ‘ডামি প্রার্থীর’ ভোট দেখে বাংলাদেশ। আর ২০১৮ সালে বিএনপি নির্বাচনে এলেও তা ‘রাতের ভোট’ হিসেবে অভিযোগের মুখে পড়ে। এ নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা হয়। তিনটি নির্বাচনই ভোটারবিহীন এবং অংশগ্রহণমূলক না হওয়ার আলোচনা ছিল সর্বত্র।

চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এ তিন সংসদ নির্বাচন ঘিরে ওঠা অভিযোগ পর্যালোচনা এবং নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা বিশ্লেষণে পাঁচ সদস্যের কমিটি করে সরকার। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন পর্যালোচনায় গত ২৬ জুন এ কমিটি করা হয়।

পরে ক্ষমতা বাড়িয়ে এটিকে কমিশনে রূপান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার। তখন কমিশনকে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে প্রতিবেদন ও সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়। পরে কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়।

হাই কোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তরের পর সোমবার সন্ধ্যায় যমুনার সামনে ব্রিফিংয়ে এসে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “সংস্কারের জন্য যেসকল কমিশন করা হয়েছিল, আজকে (সোমবার) তার শেষ কমিশনের সব প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছে। এই কমিশনটা হল, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ এর উপর তদন্ত কমিশন।”

বিফ্রিংয়ে কমিশনের প্রধান বিচারপতি শামীম হাসনাইন বলেন, “২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ এর তিনটা ইলেকশন বটে, কিন্তু এটার মাস্টারপ্লান একটা। এই মাস্টারপ্লানটা হয়েছে ২০০৮ সালের পরে। ওই নির্বাচনের পরে, ওখান থেকে একটা পরিকল্পনা ছিল যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারটা বাতিল করা। পরে ২০১১ সালে ওটা বাতিল করা হয়।

“ওই সময়ে ওটা বাতিল করার পেছনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ছিল। ইভেনচুয়ালি রুলিং পার্টি যতদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে যেকোনো স্ট্রাটেজিতে যেকোনোভাবে তার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটা বাধা ছিল। পদ্ধতিটা বাতিল করার পরে যে নির্বাচনটা হল তার সমস্তকিছু স্বচ্ছভাবে আমাদের প্রতিবেদনে এসেছে।”

তদন্ত কমিটিতে ছিলেন সচিব পদমর্যাদার সাবেক কর্মকর্তা শামীম আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক (সুপণ), ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী তাজরিয়ান আকরাম হোসাইন ও নির্বাচন বিশ্লেষক মো. আব্দুল আলীম।

যা আছে কমিশনের প্রতিবেদনে

তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, ২০১৪ সালে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং অবশিষ্ট ১৪৭টিতে 'প্রতিদ্বন্দ্বিতার’ নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ ‘সাজানো’ ও ‘সুপরিকল্পিত’। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে ‘ক্ষমতায় রাখতে এ বন্দোবস্ত’ করা হয়েছিল।

“২০১৪ সালের নির্বাচন সারা বিশ্বে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন হিসেবে সমালোচিত হওয়ায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের নির্বাচনকে 'প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক' করার মিশন গ্রহণ করে। বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল তাদের এ সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বুঝতে না পেরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।”

এতে বলা হয়, তদন্ত কমিশনের প্রাক্কলন অনুযায়ী ২০১৮ সালে ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে ‘রাতের বেলায় ব্যালট পেপারে’ সিল মেরে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করে রাখা হয়। আওয়ামী লীগকে জেতাতে প্রশাসনের মধ্যে এক ধরনের ‘অসৎ প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ ছিল। ফলে কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট প্রদানের হার ১০০ শতাংশ এর বেশি হয়ে যায়।

২০২৪ সালে বিএনপিসহ বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ না দেওয়ায় 'ডামি' প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনকে 'প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক' করার অপকৌশল গ্রহণ করা হয়।

কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনটি নির্বাচন আয়োজনের অভিনব এসব পরিকল্পনা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয় এবং বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়। কিছু কর্মকর্তার সমন্বয়ে বিশেষ সেল গঠন করা হয়, যা ‘নির্বাচন সেল’ নামে পরিচিত লাভ করে।

‘গোয়েন্দা বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর একটি অংশকে ব্যবহার’

নির্বাচন ব্যবস্থাকে ‘কলুষিত’ করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল; নির্বাচনি কৌশল নির্ধারণ ও নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং সশস্ত্র বাহিনীর মনোনীত একটি অংশকে ব্যবহারের কথা তুলে ধরা হয়েছেন তদন্ত প্রতিবেদনে।

একই সঙ্গে বিরোধী প্রার্থী ও কর্মীদের নামে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের; বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের অজামিনযোগ্য মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার ও গুম; জাল ভোট প্রদান; নির্বাচনি কারচুপিতে নির্বাহী বিভাগকে ব্যবহার ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর মতো বিষয়ও উঠে এসেছে এ প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদেনে “ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের প্রবেশে বাধা; অনিয়মতান্ত্রিকভাবে সংসদীয় সীমানা নির্ধারণ; আগে থেকেই ব্যালট বাক্সে ভোট ভরে রেখে ভোট প্রদানের হারে পরিবর্তন; ভোটকেন্দ্রে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ; একতরফাভাবে সরকারের আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগ; প্রার্থীদের ভয়ভীতি, প্রলোভন দেখিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের” বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, “নির্বাচনের পরে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি পরিসংখ্যান প্রকাশ না করা; নির্বাচনের পরে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নথি ও তথ্য ধ্বংস করা; নির্বাচনি অভিযোগ সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে তদন্ত না করা ও নির্বাচনে ডামি প্রার্থী দাঁড় করানো; বিরোধী রাজনৈতিক দলে ভাঙনের চেষ্টা নির্বাচনি পর্যবেক্ষণ নিবন্ধনে পক্ষপাতিত্ব; রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনে বৈষম্য নির্বাচনের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হয়েছে।”

 

একগুচ্ছ সুপারিশ

কমিশনের সদস্য আব্দুল আলীম বলেন, কমিশন ৪৪টি সুপারিশ তুলে ধরেছে প্রতিবেদনে।

সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রস্তাবিত আইন প্রণয়ন এবং সে অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা। ২০১৪ সালে নিবন্ধিত দল বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট এবং ২০১৭ সালের নিবন্ধিত বিএসপি ও বিএনএমের নিবন্ধন স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পুনর্বাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

এছাড়া নির্বাচনের সব কার্যক্রমে সব গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা বন্ধ করতে হবে বলে তুলে ধরা হয়।

“তবে নির্বাচন কমিশন যদি নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো কাজে তাদের সহায়তা গ্রহণ প্রয়োজনীয় মনে করে, তা হলে তা নিতে পারবে এধরনের বিধান প্রণয়ন করতে হবে।”

সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তা নিয়োগ প্রসঙ্গে সুপারিশে বলা হয়, প্রশাসন ক্যাডার থেকে কোনো কর্মকর্তা প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। প্রশাসনের বাইরে থেকে সচিব নিয়োগের জন্য বিধিমালা প্রণনয় করতে হবে।

“নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রিটার্নিং ও সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ করতে হবে। এ দায়িত্ব পালনের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক কমিশনের কর্মকর্তা পাওয়া না গেলে প্রশাসনসহ অন্য ক্যাডার থেকে নিয়োগ করতে হবে।”

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রদত্ত বৈধ কার্ডধারী সাংবাদিক সরাসরি ভোটকেন্দ্রে কারো অনুমতি না নিয়েই প্রবেশ করতে পারবেন, অর্থাৎ নতুন করে কারো কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে না বলেও তুলে ধরা হয় সুপারিশে।

“তবে কোনোক্রমেমেই গোপন কক্ষের ভেতরের ছবি ধারণ করতে পারবেন না। তবে শর্ত থাকে যে, গোপন কক্ষে কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটলে সে ছবি/ভিডিও ধারণ করতে পারবেন।”

সুপারিশে বলা হয়, সাংবাদিকরা ভোটগণনা কক্ষে গণনা দেখতে পারবেন, ছবি নিতে পারবেন, তবে সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবেন না।

গোয়েন্দা সংস্থার কাজে স্বচ্ছতার সুপারিশ করে বলা হয়, ডিজিএফআই, এনএসআইসহ সব গোয়েন্দা সংস্থার কাজে স্বচ্ছতা আনা জরুরি- যাতে ভবিষ্যতে এসব সংস্থা রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হতে পারে।

“ডিজিএফআই এবং এনএসআই এ নিয়োগ, পদোন্নতি এবং পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন প্রয়োজন; বেসামরিক প্রশাসনে ডিজিএফআই এবং এনএসআই এর অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।”

প্রতিবেদনে কমিশন তার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে বলেছে, “সময় স্বল্পতার কারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের স্বার্থে ভবিষ্যতে ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্ত করে ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলোর অনিয়মের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।”

২০০৮ সালের ভোটেরও তদন্ত হওয়া উচিত

 

ইভিএমের বিষয়ে কমিশনের সদস্য অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক সুপণ বলেন, যখন ইভিএম চালু করা হয়, তখন সরকার ও সরকার দলীয় জোটের রাজনৈতিক দলগুলো ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দল এটাকে সমর্থন দেয়নি। বিশেষজ্ঞরাও সমর্থন দেয়নি। তারপরও চালু হয় এবং তিন হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হয় প্রকল্পে।

তিনি বলেন, মাত্র ছয়টা আসনে ইভিএম ব্যবহার হয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে। মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রকল্প চালু রাখা যাতে টাকা ব্যয় করা যায়।

“তদন্ত করে আমরা বের করলাম এ প্রজক্টে ইসির ছিল না। এটা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারেক আহমদ সিদ্দিকী ও তার অনুসারী কর্মকর্তা জোর করে ইসির উপর চাপিয়ে দিয়েছিল।”

তার মতে, পুরো প্রক্রিয়া এত দ্রুত হয় যেটা ‘অস্বাভাবিক’। ইভিএমে বাতিল ভোট শূন্য হলেও কারচুপি কিন্তু থামাতে পারেনি।

২০০৮ সালের নবম সংসদ নিয়েও তদন্ত করা উচিত বলে মনে করেন এই কমিশন সদস্য।

তিনি বলেন, “তদন্তের যে পরিধি ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪। আমাদের প্রতিবেদনের একটা সুপারিশ ছিল তদন্তটা আরও হওয়া উচিত। তদন্ত করতে গিয়ে একটা জিনিস মনে হল-২০০৮ এর নির্বাচন নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত।”

এ ব্যাখ্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে ভোট পড়েছে ৮০.১৮%। আর ২০০৮ সালে হয়েছে ৮৮%। ২০১৮ সালে ২১৩টি আসনে (কেন্দ্রে হবে) একশ’ ভাগ ভোট গৃহীত হয়েছে, মানে যারা মরে গেছে তারা ভোট দিয়ে গেছে ওখানে।

“তাহলে ২০০৮ সালে একশ’ ভাগ ভোট পড়েছে এরকম কেন্দ্রের সংখ্যা কত হতে পারে। প্রতিবেদন পড়লেই দেখবেন প্রতিটা নির্বাচনে ভোটগ্রহণের হার পরিবর্তন করা হয়েছে। এটা ইসিকে দিয়ে করানো হয়েছে, ডিসিকে ব্যবহার করা হয়েছে। সন্দেহ হয়েছে, দৃঢ় সন্দেহ এ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে এবং এটা নিয়ে তদন্ত হওয়া উচিত।”