Image description
 

আগামী সরকারকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চেয়ে বড় ফ্যাসিস্ট বানানোর সব উদ্যোগ চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম।

আজ বুধবার রাজধানীর তোপখানা রোডে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান কার্যালয়ে দলের এক আলোচনা সভায় হাসনাত কাইয়ূম এমন মন্তব্য করেন। ‘বিভাজনের মাফিয়াতান্ত্রিক রাজনীতি, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং জনগণের করণীয়’ শীর্ষক এই আয়োজনে তিনি প্রধান আলোচক ছিলেন।

সভায় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি বলেন, ‘“এস্টাবলিশমেন্ট” ও তার অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন দুই দলের মধ্যে নির্বাচনকে আটকে রাখছে।...এর ফলাফল হলো একাত্তর ও একটি লিবারেল সোসাইটির (উদারপন্থী সমাজ) পক্ষে ভোট দিতে চাইলে আপনাকে বিএনপির লুটপাট আর দখলবাজি মেনে নিতে হবে। আবার ইসলামি সেন্টিমেন্ট (অনুভূতি) থেকে কিংবা সংস্কারের পক্ষে ভোট দিতে চাইলে আপনাকে জামায়াতে ইসলামীর গণহত্যা চেপে যেতে হবে।’

হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘এ দুই ধারার বাইরে আপনি একাত্তরের পক্ষে, সংস্কারের পক্ষে, চব্বিশ ও নব্বইয়ের পক্ষে, লিবারেল সোসাইটির (উদারপন্থী সমাজ) পক্ষে ভোট দিতে চাইলে আপনার সামনে কোনো অপশন নির্বাচন কমিশন রাখেনি।’

নির্বাচন কমিশন আদালতের রায় অমান্য করে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নিবন্ধন দেয়নি অভিযোগ করে হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘আমরা নির্বাচন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে কঠোর কোনো ব্যবস্থা নিইনি। এখন আবার স্বতন্ত্র নির্বাচন করার ক্ষেত্রে পুলিশ দিয়ে আমাদের সমর্থকদের ভয় দেখিয়ে মনোনয়ন বাতিল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’

স্বতন্ত্র প্রার্থিতার মনোনয়ন নিশ্চিত করতে আপিলসহ প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দেন হাসনাত কাইয়ূম। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে, প্রয়োজনে মামলাও করা হবে বলে জানান রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি।

সভায় অন্যদের মধ্যে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল সিকদার, অহিংস আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি আবুল বাশার, ব্রহ্মপুত্র রক্ষা কমিটির সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদসহ অনেকে বক্তব্য দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন দলের সহসভাপতি হাবিবুর রহমান রাজা।